কয়দিন থেকেই গরুটির খাবার মুখে যাচ্ছে না। কেবল চোখ ফেটে পানি আসছে। মালিক ব্যাপারটি লক্ষ্য করেছে। ভেবেছে সে ডাক দিয়েছে তার সঙ্গিনী লাগবে! তিন গ্রাম ঘুরে তার জন্য সঙ্গিনী আনা হলো। কিন্তু সে মুখ তুলেই তাকায় না। অগত্যা মালিক দুটো গরুকে এক খুঁটিতে বেঁধে নিজের অন্য কাজে চলে গেলো। সঙ্গিনী গরুটির সত্যিই ডাক এসেছে!
জোয়ার এসেছে। সে রশি ধরে টানাটানি, ডাকাডাকি, হুলুস্থূল কাণ্ড বাঁধিয়ে বসেছে। তার চিল্লাচিল্লিতে মালিককে মুখে বিরক্তির ভাব নিয়ে গজগজ করতে করতে আসতে দেখা যাচ্ছে। তার হাতে গরু পেটানোর লাঠি। গরুটি মালিকের প্রত্যাবর্তন দৃশ্য দেখার সাথে সাথেই সঙ্গিনী গরুটির মুখের কাছে মুখ নিয়ে ঘ্রাণ নিলো নাকি কিছু বললো বোঝা গেলো না কিন্তু তারা সক্রিয় হয়ে উঠলো। মালিক বিস্ময়ের সাথে দেখলো তার যোদ্ধা গরু যুদ্ধ ভুলে কোন রকমে দায়সারা দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে! তাতে অপরপক্ষ গো গো শব্দ করছে। একবার লাঠি তুললো, দেবে কষিয়ে মার! কাজ ভুলে অকাজে মন। খায় না দায় না। কেবল কাঁদে আর কাঁদে। গরুর আবার এতো কান্না কাটি কিসের! পরক্ষণেই তার নিজের কথা মনে হলো, সেও আজকাল যুদ্ধ করতে পারে না! ইচ্ছে করলেও পারে না! সুতরাং মার দিয়ে কেন গজমতিকে কষ্ট দেবে! তার যদি ইচ্ছে না করে, তার যদি ডিমান্ড না থাকে, জোর করে সে কিছুই করতে পারবে না। নিজের ব্যর্থতায় ঢেকে দিল গজমতির অকৃতকার্যতা! কেন সে এ রকম মনমরা হয়ে আছে? তার খাবারের সমস্যা হচ্ছে? নাকি দেহে অসুখ বেঁধেছে? এসব ভাবনায় যখন মালিক বিভোর তখন গজমতি যুদ্ধে ইস্তফা দিয়েছে! সঙ্গিনী অনিচ্ছা সত্ত্বেও লেজ নেড়ে নেড়ে অন্যদিকে গিয়ে শুয়ে পড়লো। তার মুখ থেকে অসন্তোষের, অতৃপ্তির লালা ঝরছে, কিন্তু কিছুই করার নেই! কদম আলী ভাবল, বদরের মাও গজ গজ করতে করতে তাকে বকতে বকতে ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে যায়। অনেকক্ষণ পরে ঘরে ফিরে এসে অন্য জায়গায় বিছানা পেতে শুয়ে পড়ে। কদমআলী ভাবলো, হায়রে জীবন! কোথায় যৌবন! কোথায় যুদ্ধ! কোথায় যুদ্ধজয়! কালের আবর্তে সব কেমন ঘুরপাক খায়, সব কেমন হারিয়ে যায়! বলেই একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লো!
একটা সময় ছিল বদরের মাকে চোখের আড়াল হতে দিতাম না। বদরের মা বাপের বাড়ি যেতে চাইলে আমার কি যে রাগ হত, তাকে ছাড়া আমার কেমন করে রাত যাবে! খাই বা না খাই বদরের মায়ের কাছে না এলে আমার কিছুতেই শান্তি ছিল না। এ নিয়ে মা কত কথাই না শোনাতো। বন্ধুরা কতই হাসতো! আমার কিন্তু রাত-দিন বদরের মাকেই চাই। বদরের মাও কখনো বিরক্ত হতো না মাঝে মাঝে শুধু বলতো কিছুটা বিশ্রাম প্রয়োজন! আমি হাসতে হাসতে বলতাম বাজার থেকে চকলেট নিয়ে আসবো কিন্তু! কচি খুকির মত চকলেট পেয়ে বদরের মা যে কী খুশি হতো! একটু চকলেট নিজে খেত বাকিটুকু আমার মুখেই পুরে দিত! ফিক করে হেসে বলতো যুদ্ধে জিততে হলে খেতে হবে! কদম আলী যেন যৌবনের কদম আলী হয়ে উঠেছে, তার চোখ দুটো জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠলো। পরক্ষণেই কেমন যেন মুষড়ে পড়ল!গজমতির দিকে মনোযোগ দিল। গজমতীর যে কি হয়েছে,খাবারও খাচ্ছে না, কদম আলী মাথায় হাত দিয়ে ভাবতে থাকে আর ঘামতে থাকে।গজমতির চোখের জল বলে দিচ্ছে তার অন্তর দহন তীব্র!
সঙ্গিনী গরুটি এগিয়ে এসে বললো,তুমি এ ভাবে বলদ হয়ে গেলে কেন?কি তোমার শৌর্য-বীর্য ছিলো! দক্ষিণের মাঠে তুমি যখন ছুটে বেড়াতে সারা গাঁয়ের সব গরু তোমার পিছু নিতো। তুমি একদিনে কয় গরুর সাথে যুদ্ধ করতে তোমার মনে আছে? তারপরও তোমার ক্লান্ত ছিল না তুমি সেই রকম ডাকাডাকি করতে যেন তোমার আরো চাই আরো চাই! আমার তো তখন বয়স কম ছিল। মাত্র জন্ম নিয়েছিলাম। আমার জন্মদাতা ও মনে হয় তুমিই। মাকে দেখলাম তোমাকে দেখেই কেমন লাল হয়ে গেল। গরুর সমাজে কোন নিয়ম কানুন নেই। তাই তোমার কত আনন্দ! তোমার মালিক এজন্য যে কত টাকা আয় করল! মনুষ্য সমাজ হলে তোমার নাম হতো পতিতা হিহিহ আর তোমার মালিক হতো পতিতার সরদার, তোমাদের ঘর হত পতিতালয়! ভাগ্যিস! আমরা গরু তাই আমাদের এরকম কোন নাম নেই! দশ গ্রামের একমাত্র বীর্যবান তুমিই। নইলে আমার জন্মদাতা হওয়া সত্বেও আমাকেও আসতে হল তোমার কাছেই! তোমার তো আর সেই দিন নাই আমার মনেই ছিল না! আমার চোখে তো বলবান তুমি! শৈশবের তুমি সত্যি বলদ হয়ে গিয়েছো তা আমার জানা ছিল না। গজমতি কান নেড়ে, লেজ নেড়ে শিং উঁচিয়ে বললো, তোমার ভাবনা নেই, আজ তুমি গর্ভবতী হয়েছো। সঙ্গিনী গরুটি বললো, আমি ভাবছি আমার সন্তান সুস্থ হবে নাকি প্রতিবন্ধী হবে? তোমার যা অবস্থা তোমার বীর্য থেকে সুস্থ বাচ্চা হওয়ার আর কোন সম্ভাবনা নেই! বাচ্চা হওয়া তো খুবই সহজ কিন্তু জোয়ার থামানো অনেক কঠিন! গজমতি গলা উঁচিয়ে বলল, তোমার তো বাচ্চা দরকার, বাচ্চা হবে।বাচ্চা দেবে,দুধ দেবে। সবাই তোমাকে মাথায় তুলে রাখবে। ভালো খাবার দেবে, ডাক্তার দেখাবে, ভালো জায়গায় ঘুমুতে দেবে। আর কি চাই? মানুষের বাচ্চার মত খাই খাই করবে না! হয়েছো গরু ঘাস খাবে যাবর কাটবে তারপর কসাইয়ের ঘরে যাবে,বুঝলে?আমার অবস্থায় পড়লে তুমি বুঝতে!
তোমার আবার কী অবস্থা! মালিক তোমায় কতো ভালো খেতে দেয়। এখন তো তোমাকে দিয়ে হাল-চাষও করায় না। তোমার রূপের আগুনে পুড়ে পুড়ে তামাম এলাকার সকল নারীগরু গর্ভবতী হয়েছে। তামাম এলাকায় তোমার বংশধর। তোমার মালিক বসে বসে তোমার নানান ক্রীড়া কলাপ দেখে আর বাড়ি গিয়ে মজা লুটে। ব্যাটা আলসে, আর কোন কাজ করে না!
-আরে ধুর! মালিক এখন কেলাস! রোজ রোজ মালকিনের কাছে চেঁচা খায়!
-তুমি জানলে কেমনে?
সক্কালবেলা আমারে পরিষ্কার করিয়ে দেয়ার জন্য মালিক আসে। তখন একা একাই বলে সব,সাক্ষী করে আমাকে, বলো কেমন লাগে?
আরো কাহিনী আছে। দশটা বাজলে মালকিন পানচিবুতে চিবুতে আমার কাছে আসে। সাবান গুলে পানি নেয়। আমারে ঘষে ঘষে গোসল করায় ।জানো আর কি করে? গোসল করানোর সময় আমার আগায় পাছায় এমন ঘষা ঘষে আর এমন মজা করে যে! কিরে তুইও কি তোর মালিকের মত, তোরও কি খাড়ায় না! তুইও হাপাস! আজকাল তোর মালিকের আয় কমলো কেন রে! জানিস তো বেটা মানেই অযথা হম্বিতম্বি! যেন তারাই সব পারে আর কেউ কিছু পারে না! আসল কথা কি জানিস একটা সময় পার হলে এই তোরা ব্যাটারা তোদের সব অকেজো হয়ে যায়! এসব কথা শুনতে মন চায়? মালকিন বেশ সুন্দরী ,পান খায় ,সুন্দর করে সাজে, আমারে কত যত্ন করে গোসল করায় ! তাই চুপ মেরে থাকি নইলে গুতিয়ে দেখিয়ে দিতাম পুরুষ কারে কয়! তবে ছেড়েও দেই না যখন গোসল সেরে আমার গায়ে তেল মাখতে আসে আমিও ইচ্ছে মত তার গায়ের সাথে গা জড়িয়ে বুঝিয়ে দিই আমি পুরুষ!
সঙ্গিনী গরুটি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খায় তুমি এখনো এত দুষ্টু! যাক বাবা চালিয়ে যাও!
গজমতি বলে,মালিক সারাদিন দোকানে বসে বসে এলাকার মানুষের মাঝে প্যাচ লাগায়, রাজনীতির নামে ভণ্ডামি করে। এ দলের কথা ওই দলে লাগায়। এলাকায় এক ধরণের মারপিট অবস্থা তৈরি করে রাখে। মানুষের জায়গায় গাছ লাগায় পরে দাবি করে এই জায়গা আমার, এই গাছ আমার, ওই পরিবারের ইদ্রিসের মত। ইদ্রিসের পোলা আরেক শয়তান।মানুষের সাথে জায়গা নিয়ে জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব করে। এ দ্বন্দ্বে ইন্ধন জোগায় আমার মানিক কদম আলী। বাপরে! তার পেটে এমন কুবুদ্ধি জন্মেও দেখিনি কোথাও! কেমন অসভ্যর অসভ্য আমাকে দিয়ে পতিতার কাজ করায়। পুরুষ পতিতাকে কি বলে জানো? জিগোলা।
আমার খাওয়ার চিন্তা আছে? আমি ঘাস খেতে খেতে যেদিকে ইচ্ছা চলে যেতে পারি। দুটো ঘাসের জন্য এত কষ্ট? আমার গলায় দড়ি লাগায়!
মানুষ তারে নানান কথা বলে। কত যে গালমন্দ করে মানুষের সাথে হাতাহাতি মারামারি। দাঁত মেশক করে আর ঝগড়া করে। আমাকে এসব শুনতেই হয় আমার ভালো লাগে? এ নিয়ে উত্তেজিত থাকে সারাক্ষণ।
এতো বাজে স্বভাব যার সে বুঝি বউ এর সাথে জিতে?
মালিকের কথা শুনে মন খারাপ হয়েছে। সামনে কোরবানির ঈদ আমাকে ঈদের বাজারে তুলবে, বিক্রি করবে। কেউ কিনবে আর আমার গলার ছুরি বসাবে। কথাগুলো আমার সামনেই বলল মালিক, আমি তাজ্জব হয়ে শুনলাম! আমার জন্য কোন মায়া নেই! আবার মাথা থেকে পা পর্যন্ত স্কেল দিয়ে মেপে বের করেছে কত কেজি মাংস আমার দেহে। প্রতি কেজির দাম এক হাজার টাকা হলে আমার দাম কত হবে! আমি মালিকের জন্য কতই না কষ্ট করি ‘আমাকে দিয়েই তো সে ব্যবসা করে, আমার ইজ্জত সম্মান সবার সামনে বিকিয়ে দেয়। আমি যুদ্ধ করি সে লোকজন নিয়ে হাততালি দেয়। যুবক বয়সে বুঝিনি। নিজের রণকৌশল তুলে ধরাই কৃতিত্ব ভাবতাম। পরে বুঝেছি, এ বেয়াদব মালিক আমার সম্মান বেঁচে পয়সা নেয়। তাও কিছু বলিনি আমি গরু, মুখ নাই, হাত নাই, ভাষা নাই, আমার লজ্জাও নাই।
সে তো সবার কাছ থেকে অনেক টাকা রাখে! আমি কষ্ট করি সে টাকা রাখে! আমাকে না হয় ঘাস লতা পাতা খেতে দে, গোসল করায় কিন্তু আমিও তো দি! অথচ আমার জন্য মায়া নেই? বিক্রি করে দেবে? তাই ঠিক করলাম, খাব না। শুকিয়ে যাবো আমার দাম কম হবে মালিকের শাস্তি হবে। কম দাম পেয়ে গজ গজ করবে।শাস্তি পাবে।
-ধুর পাগল! নিজেকে শাস্তি দিয়ে অন্যকে জব্দ করার কোন মানেই হয় না! যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণ আশ। ইস! যদি হিন্দুর ঘরে হতাম তাহলে তারা আমাদেরকে কোরবানির পশু বানাতে পারত না! তারা আমাদেরকে মায়ের মত সম্মান করে।
-হ, যতক্ষণ দুধ দেবে, বাচ্চা দেবে ততক্ষণ তোমাকে মা বলে সম্মান করবে। তারপরে কি করবে জানো? কসাই এর কাছে বিক্রি করবে। তাছাড়া তারাও কম না, পাঠা বলি দে। আমার প্রতিবেশীর পূর্বপুরুষ হিন্দুর ঘরের ছিল। অনেক যত্ন করত। একদিন কসাই এর কাছে বিক্রি করে দিল। মার কাছে শুনেছি কসাই টুকরো টুকরো করে কেটে সের দরে বিক্রি করেছে। তারা ছাগলকে পাঠা বানায়। তার পর দেবতার নামে এক কোপে মাথা দ্বিখণ্ডিত করে বলি দেয়।
আমরা পশুরা এই মনুষ্য সমাজের কাছে কখনোই নিরাপদ নয়। তাদের প্রয়োজনে তারা আমাদেরকে খাওয়া ঘরে জায়গা দে পাহারা দে যত্ন আত্তি করে। প্রয়োজন ফুরালে আমাদেরকে তারা হত্যা করে। কেউ বলি দে, কেউ কুরবানী দেয়, কেউ কসাইয়ের কাছে বিক্রি করে। আমাদের নিয়তি হল মানুষের খাবার হওয়া। পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল হাঁস আর মুরগির দল। গজমতি বললো দেখো দেখো কত বাহারি হাঁস কত মোরগ এসবই তারা খাবে। তাদের সৃষ্টিকর্তা তাদেরকে দিয়েছে শুধু খাবারের পেট। আমরা খাই বাঁচার জন্য তারা বাঁচে খাবারের জন্য। পার্থক্য বুঝেছো?এতক্ষণে সঙ্গিনী গরুটির হুঁস হল। এবার সেও কাঁদতে শুরু করল।
কদম আলী রাজনীতি করতে করতে এগিয়ে আসছে ।নজর অতীতের দিকে। এবার যদি ফেয়ার ইলেকশন হয় আমার নাম ফিরাই ফেলবো। কত কাজ এখনো পড়ে আছে ফেয়ার ইলেকশন হলে এ কাজগুলো কে করবে? তাছাড়া ফেয়ার ইলেকশন কখনো হয় নাকি? নেতারা, প্রার্থীরা টাকা ছিটায়,অশিক্ষিত লোকেরা টাকা নিয়ে ভোট দেয়, না হয় ব্যালট বক্স চুরি করে! কোনদিনও দেখলাম না এই দেশে ফেয়ার ইলেকশন হতে! নিরক্ষর জনগণের দেশে ফেয়ার ইলেকশন বলে কিছুই নেই। এই লোকগুলোকে চালানোর জন্য দরকার মার্শাল ল। তবে দেশ দরদী জনদরদি মার্শাল ল দরকার। যে দেশের মানুষ নিজেদের শরীর পরিষ্কার রাখতে পারে না সেই দেশের মানুষকে গণতন্ত্রের অধিকার দেয়া উচিত নয়। গণতন্ত্র সম্পর্কে সম্যক ধারণা না থাকলে গণতন্ত্র ব্যর্থ হয়। সেইসব জনগণের জন্য গণতন্ত্রের প্রয়োজন যে জনগণ নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন থাকে, যে জনগণ নিজের চেয়ে দেশকে দেশের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেয়। যে জনগণ সামষ্টিক উন্নয়নের কথা ভাবে যে জনগণের মধ্যে সৌজন্যবোধ থাকে, যে জনগণের মধ্যে মানবতা থাকে, যে জনগণ অন্যায় ও দুর্নীতি করে না সেই জনগণের জন্য গণতন্ত্র প্রয়োজন। এই দেশের জনগণের জন্য প্রয়োজন লাঠি।এই দেশের জনগণ টক্সিক। এই দেশের জনগণ স্বার্থপর, এদের জন্য গণতন্ত্র নয়, ফেয়ার ইলেকশনও এদের জন্য নয়। এসব বলতে বলতে কদম আলী গজমতির সামনে এসে দাঁড়ালো। গজমতি বললো, দেখলি আমাদের মালিক কি পলিটিশিয়ান! কি রাজনীতি করছে! কিন্তু এই বোবা পশু আমি গজমতীর জন্য তার কোন মায়া নেই! আমি শিওর আগামী রবিবারের বাজারে আমাকে তুলবে। আমাকে মাফ করে দিস আমি তোর মনের ইচ্ছা পূরণ করতে পারিনি।
সবাইকে বলে দিস আমাকে মাফ করে দিতে। গোধূলি বেলায় সূর্য আবার উঠে না! আমারও বেলা শেষ আমার জীবনের সকল আনন্দ সকল উচ্ছ্বাস আজকেই শেষ। আমি দেখতে পাচ্ছি আমার আয়ু আর বেশিদিন নেই। হয় কোরবানির মাঠে বাজারে যাবো আমি, না হয় কসাইয়ের কাছে যাব আর মাত্র পনেরো দিনের মাথায় আমি হয়ে যাবো মুখ রোচক গরুর গোস্ত! সবাই মজা করে খাবে, কাবাব বানাবে,কালী ভুনা করবে,রেজালা করবে। না না আমি আর ভাবতে পারছি না! আমাকে মাফ করে দিস। গজমতি হু হু করে কাঁদতে থাকে। সঙ্গিনী গরুটি মুখের কাছে মুখে নিয়ে বলে গজমতি আর একবার জীবনেরস্বাদ নিও।
আগামীকাল তোমাকে দক্ষিণের মাঠে নিয়ে যাবে আমি শুনেছি। তোমার মালকিন বলেছে। সেখানে সবাই থাকবে তুমি আরেকবার জেগে ওঠো জীবনের স্বাদ আরেকবার নিও। জীবন তো একবারই আসে আর ফিরে আসবে না জীবন। সঙ্গিনী গরুটিও কাঁদতে শুরু করল। কদম আলী কি বুঝলো আর না বুঝলো গজমতির গলায় হাত বুলালো আর বলল, গজমতি, পৃথিবীর প্রতিটি প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হয় আমিও একদিন থাকবো না তুইও থাকবি না। এটাই নিয়ম – স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নিতেই হবে। মালিকের আদর খেতে খেতে গজমতি শিং উঁচিয়ে, পা ছড়িয়ে, লেজ নাড়িয়ে হুঙ্কার ছাড়লো – হাম্বা।
তামাম এলাকার গরুগুলো এক সাথে ডাকলো – হাম্বা। এ সময় প্রবল বাতাসসহ বৃষ্টি নামলো, দূরে মাইকিং হচ্ছে- এক বিরাট গরুর হাট বসেছে….
শাহানা সিরাজী
ইন্সট্রাক্টর,(সাধারণ),পিটিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়া,
কবি, প্রাবন্ধিক ও কথা সাহিত্যিক।
আরও পড়ুন।
মহান মে দিবস: শ্রমিক অধিকার ও সংগ্রামের রুদ্রপথ – শাহানা সিরাজী
আরও পড়ুন।
আরও পড়ুন।
আরও পড়ুন।
আরও পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও পড়ুন।
আরও পড়ুন।
আরও পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও পড়ুন।
আরও পড়ুন।
আরও পড়ুন।
আরও পড়ুন।
আরও লেখা পড়ুন।
আরও লেখা পড়ুন।
আরও লেখা পড়ুন।
আরও লেখা পড়ুন।
আরও লেখা পড়ুন।
আরও লেখা পড়ুন।
আরও লেখা পড়ুন।
আরও লেখা পড়ুন।
আরও লেখা পড়ুন।
আরও লেখা পড়ুন।



























