জোয়ারের পানিতে ভাসছে মনপুরার নিম্নাঞ্চল!

Picsart_26-07-20_12-52-08-219.png
admin

আজ সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) সকালে মনপুরা উপজেলার ১নং মনপুরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বেড়ীবাঁধের বাহিরের গুচ্ছ গ্রাম (ষাট কলোনি) থেকে ছবিটি নেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রতিনিধিঃ দ্বীপ জেলা ভোলার একমাত্র দ্বীপ উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাত, উজানের পানি এবং জোয়ারের পানি স্বাভাবিকের চেয়ে বিপদ সীমা অতিক্রম করে পানি প্লাবিত হচ্ছে। ফলে দ্বীপ উপজেলা মনপুরার বিভিন্ন ইউনিয়ন পানিতে প্লাবিত হয়েছে। চরম দুর্ভোগে পড়েছে স্থানীয় অসাধারণ মানুষ৷

গতকাল রবিবারের আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ‘সমুদ্র উত্তাল। তিন নাম্বার সতর্ক সংকেত এবং নদী সমূহকে এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।’

দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে স্থানীয় সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে, ঘর থেকে কেউ বের হতে পারছে না, কাজকর্মের ব্যাঘাত ঘটছে।

স্থানীয় সাধারণ মানুষের দু’বেলা অন্ন জোটানোই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। গবাদি পশু ও প্রাণীগুলো অনাহারে দিনরাত পার করছে।

মনপুরা উপজেলার ১নং মনপুরা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বেড়ীবাঁধের বাহিরের গুচ্ছ গ্রাম (ষাট কলোনি)সহ আশপাশের এলাকা পানির নিচে ডুবে আছে।

স্থানীয়দের জানান, জোয়ারের পানিতে পুকুর ও নলকূপের পানি দূষিত হয়ে পড়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বাজারে যাতায়াত ব্যাহত ও রান্নার চুলা ডুবে যাওয়ায় অনেক পরিবার খাদ্যসংকটের আশঙ্কা করছে। নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা থাকলে ডায়রিয়া, আমাশয়, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানি বাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

ভোলা জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (চরফ্যাশন উপজেলা ও মনপুরা উপজেলা)র দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-২ মোঃ আসফাউদদৌলা বলেন, গত (১৭জুলাই ২০২৬) তারিখে মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ১২৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ফলে মনপুরা সহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বিভিন্ন ইউনিয়ন পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু মুছা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য প্রস্তুতি রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভোলা পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান গণমাধ্যমে বলেন, ভয়ের কিছু নাই। মহান আল্লাহ তায়ালার রহমতে মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে গতকয়েক দিন প্রবাহিত হলেও আজ এবং আগামীকাল পানি কমে যাবে – ইনশাআল্লাহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top