রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান। ফাইল ছবি।
অপরাধ প্রতিবেদকঃ অর্থপাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও হাজার কোটি টাকার অনিয়মের একাধিক অভিযোগ চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে। তার দুর্নীতি তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান দল এখন খুঁজে দেখছে কিভাবে একটি সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে রাষ্ট্রের টাকা লুটে নিচ্ছে। বন্দর চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিপুল অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। নৌবাহিনীর এই শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা বর্তমানে সরকারি সফরে বিদেশে রয়েছেন।
কর্ণফুলীর তলদেশে টাকা গায়েব!
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই ২০২৫) দুদকের সহকারী পরিচালক (তদন্ত ও অনুসন্ধান-৫) মো. নওশাদ আলীর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য দুই সদস্যের একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন নওশাদ আলী নিজেই এবং তার সঙ্গে সদস্য হিসেবে রয়েছেন উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন।
বন্দর চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানকে ২৮ জুলাইয়ের মধ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। নথিগুলোর মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী নদী ড্রেজিং প্রকল্পসংক্রান্ত অনুমোদনপত্র, আর্থিক বরাদ্দপত্র, টেন্ডার ডকুমেন্ট, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি, দাখিলকৃত দরপত্র, দরপত্র উন্মুক্ত ও মূল্যায়ন কমিটির প্রতিবেদন, তুলনামূলক বিবরণী, কার্যাদেশ, চুক্তি, বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন, বিল পরিশোধ সংক্রান্ত বিল-ভাউচারসহ সংশ্লিষ্ট সকল রেকর্ডপত্র।
দুদকের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, অভিযোগের সুষ্ঠু ও গভীর তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র অত্যন্ত জরুরি।
এছাড়া চেয়ারম্যানের স্ত্রী আইরিন জামান ও দুই ছেলে মুহতাসিম ইয়াসার ও সারান ইয়াসারের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং জন্মনিবন্ধনের সত্যায়িত কপিও চেয়েছে দুদক।
যার স্থলাভিষিক্ত, তিনিও জেলখানায়
রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান গত বছরের ১১ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দেন। তিনি রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ সোহায়েলের স্থলাভিষিক্ত হন। দুর্নীতি, জোরপূর্বক গুম এবং হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযোগে সোহায়েল গত বছরের ২০ আগস্ট গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে কারাগারে আছেন।
চট্টগ্রাম বন্দরে যোগ দেওয়ার আগে বর্তমান বন্দর চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান শিপিং করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডিইডব্লিউ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সেনা কল্যাণ সংস্থার ডিজিএমআইএস এবং কমান্ডার চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের চিফ স্টাফ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সিন্ডিকেটের ছায়ায় চলছে বন্দর
মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) দপ্তরের চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদনে প্রায় ১ হাজার ৩১৪ কোটি টাকার ৭২টি বড় ধরনের অনিয়ম চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৪৪টি অনিয়ম রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ২৬৫ কোটি টাকা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই অনিয়মগুলো হয়েছে দরপত্র কারসাজি ও চুক্তি ব্যবস্থাপনায় দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়ার মাধ্যমে।
বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এখনও সক্রিয় রয়েছে। এই সিন্ডিকেট বন্দর কমকর্তাদের যোগসাজশে এখনও আগের মতোই বেপরোয়া। দরপত্রে কারসাজির মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে কাজ পাইয়ে দিচ্ছে, সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাদ দিচ্ছে এবং প্রকল্পের ব্যয় কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এর ফলে সরকারকে বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
দেখা গেছে, লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল-২ প্রকল্পে দরপত্রে কারসাজি করে প্রায় ১০ কোটি টাকা বেশি খরচ দেখিয়ে কাজের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আরও সংবাদ পড়ুন।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মেডেল পেলেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ১১০ সদস্য
আরও সংবাদ পড়ুন।
সশস্ত্রবাহিনী সব সময় জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতে থাকবে – নৌবাহিনী প্রধান
আরও সংবাদ পড়ুন।
রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হলেন
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আড়াই কোটি টাকা উদ্ধার সাবেক ডিজিএফআই প্রধান সাইফুল আলমের বাসা থেকে
আরও সংবাদ পড়ুন।
এনএসআই’র সাবেক মহাপরিচালক জোবায়ের ও তার স্ত্রীসহ দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
এনএসআইয়ের সাবেক ডিজি টি এম জোবায়েরের ৪ দেশে অর্থপাচার ও সম্পদের পাহাড়
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
শান্তিরক্ষা মিশন এলাকা সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক পরিদর্শনে গেলেন সেনাবাহিনী প্রধান
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
মানবতাবিরোধী অপরাধ; এবারে সাবেক এনএসআই প্রধান ওয়াহিদুল হকের বিচার শুরু
আরও সংবাদ পড়ুন।



























