স্বাস্থ্য প্রতিবেদকঃ রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকায় চিকিৎসার নামে চলছে মৃত্যুর মহড়া। ‘তুবা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান কোনো বৈধ লাইসেন্স বা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই সাধারণ মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। অভিযোগের তীর ক্লিনিকটির মালিক আছিয়ার দিকে, যিনি কোনো চিকিৎসা শাস্ত্রীয় জ্ঞান ছাড়াই কখনো সার্জন, কখনো ল্যাব টেকনিশিয়ান সেজে অপারেশন পরিচালনা করছেন।
প্রতারণার যত কৌশলঃ অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এই ভুয়া ক্লিনিকের ভয়ংকর সব তথ্য:
ভুয়া পরিচয়: বাংলাদেশ ডায়াবেটিস সমিতির কোনো অনুমোদন না থাকলেও তাদের লোগো ও নাম ব্যবহার করে বছরের পর বছর রোগী আকর্ষণ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাসায় বিপজ্জনক অস্ত্রোপচার: ক্লিনিকের পেছনে নিজস্ব বাসাতেই দিন-রাত চলছে এমআর ও ডিএনসি’র মতো স্পর্শকাতর কাজ। অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে কোনো অ্যানেস্থেসিস্ট ছাড়াই আছিয়া নিজেই ছুরি-কাঁচি চালাচ্ছেন অপারেশন থিয়েটারে।
স্বল্প মূল্যের টোপ:মাত্র ১২,৫০০ টাকায় সিজার এবং ৫০০ টাকায় সুন্নতে খতনার লিফলেট বিলি করে নিম্ন আয়ের মানুষকে ফাঁদে ফেলছে এই চক্র।
অবকাঠামোর অভাব: নেই কোনো নিবন্ধিত ডাক্তার বা নার্স। ল্যাবে পাওয়া গেছে মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট, যা ভুল রিপোর্ট প্রদানের মাধ্যমে রোগীর জীবনকে আরও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
তথ্য গোপনের অপচেষ্টা ও ধৃষ্টতাঃ সম্প্রতি সরেজমিনে তদন্তে গেলে মালিক আছিয়া প্রতিবেদকের সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন বা বিএমডিসি সনদ দেখাতে ব্যর্থ হয়ে তারা ভিন্ন পথ অবলম্বন করেন। হানিফ নামের এক ব্যক্তি নিজেকে সম্পাদক পরিচয় দিয়ে বিষয়টি ‘টেবিলে বসে সমাধান’ বা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধ সাম্রাজ্যঃ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আছিয়া ও তার স্বামী মিজানুর রহমান এই অবৈধ ক্লিনিক গড়ে তোলেন। বর্তমানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলেও নামধারী কিছু সংবাদকর্মীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তারা তাদের এই ‘কসাইখানা’ সদৃশ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। মিজানুর রহমানের দাবি, তাদের কাছে সরকারি কিটবক্স থাকায় তারা আইনত বৈধ, যদিও ক্লিনিক পরিচালনার ন্যূনতম শর্তও তারা পূরণ করেননি।
জনগণের দাবি: ধলপুর ও যাত্রাবাড়ীবাসীর দাবি, অনতিবিলম্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেন এই নামসর্বস্ব ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে এটি সিলগালা করে এবং ভুয়া ডাক্তার আছিয়াসহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনে।
এ বিষয়ে ঢাকা জেলার দায়িত্বে থাকা সিভিল সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান প্রতিবেদককে বলেন, এ ধরনের ভুয়া ক্লিনিক ঢাকা শহরে অসংখ্য মাত্রায় ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা চেষ্টা করছি এগুলোকে বন্ধ করার জন্য। গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে এসব ভুয়া হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টার গুলোতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সাংবাদিক ভাইদের বলবো শুধু নিউজ করেই ক্ষান্ত হবেন না। আমরা সিলগালা করে দেওয়ার পর তারা যাতে আবার তাদের কার্যক্রম চালু করতে না পারে সেজন্য নিয়মিত ভাবে সাংবাদিকদের পর্যবেক্ষণ আমাদের কাজে খুব সহায়তা করবে। জনস্বার্থে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে নিয়মিতভাবে কাজ করতে হবে। তবেই দেশের মানুষের মঙ্গল।
আরও সংবাদ পড়ুন।
পরিবর্তনের মানসিকতা নিয়ে চিকিৎসা সেবায় আত্মনিয়োগ করুন: প্রধান উপদেষ্টা
আরও সংবাদ পড়ুন।
সরকারি হাসপাতালের রোগীকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া যাবে না : সংস্কার কমিশন
আরও সংবাদ পড়ুন।
আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৫ – দিবসটি উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাণী
আরও সংবাদ পড়ুন।
এমবিবিএস ও বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া কেউ ডাক্তার লিখতে পারবে না – হাইকোর্ট
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
বদলি বাণিজ্যে চিকিৎসক নেতারা! সাড়ে ৩ হাজার চেয়ার বদল; আওয়ামী লীগপন্থি দোসরদের পূর্নবাসন
আরও সংবাদ পড়ুন।
বিদেশে গিয়ে ৪০ জনের বেশি চিকিৎসক ফেরেননি: স্বাস্থ্য উপদেষ্টা
আরও সংবাদ পড়ুন।
সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের ভর্তি ফি নির্ধারণ
আরও সংবাদ পড়ুন।
এক হচ্ছে স্বরাষ্ট্রের দুই বিভাগ; স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েও এক হওয়া উচিৎ
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিভিন্ন অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগে – দুদকের অভিযান
আরও সংবাদ পড়ুন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ইকবাল কবীরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা



























