খালেদ আশরাফি, রেগুলেটেড ইমিগ্রেশন কনসালটেন্ট, কানাডা। ফাইল ছবি।
গণহারে ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা:
কানাডার সরকার একটি নতুন ক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে যার মাধ্যমে তারা নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর বিপুলসংখ্যক ভিসা একসঙ্গে বাতিল করতে পারবে।
নির্দিষ্ট নজরদারিতে ভারত ও বাংলাদেশ: অভ্যন্তরীণ সরকারি নথি এবং সংবাদ মাধ্যম সিবিসি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিকল্পনার আওতায় ভারত ও বাংলাদেশকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উভয় দেশ থেকে আসা ভিসা আবেদনপত্রে জালিয়াতির ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন: কানাডার অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (IRCC) এবং কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (CBSA) জাল ভ্রমণ ভিসা শনাক্ত ও বাতিল করার জন্য মার্কিন অংশীদারদের সঙ্গে একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও অস্থায়ী বাসিন্দা
স্টাডি পারমিট প্রত্যাখ্যানের হার বৃদ্ধি: ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি পারমিট বা ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে প্রায় ৭৪ শতাংশ ভারতীয় আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে, যা ২০২৩ সালের আগস্টে ছিল ৩২ শতাংশ।
অস্থায়ী বাসিন্দাদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ:
কানাডা সরকার অস্থায়ী অভিবাসীদের সংখ্যা কমানোর জন্য আন্তর্জাতিক স্টাডি পারমিটের সংখ্যা সীমিত করেছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ কানাডার মোট জনসংখ্যার ৫% এর মধ্যে অস্থায়ী বাসিন্দাদের অংশ নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্থায়ী বসবাসের অগ্রাধিকার: কানাডা এখন অস্থায়ী বাসিন্দাদের (যেমন আন্তর্জাতিক ছাত্র এবং কর্মী) যারা ইতিমধ্যেই কানাডায় আছেন, তাদের স্থায়ী বসবাসের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি নিয়েছে।
অভিবাসন লক্ষ্যমাত্রা এবং প্রোগ্রাম পরিবর্তন
সামগ্রিক লক্ষ্যমাত্রা হ্রাস: ২০২৫-২০২৭ সালের ইমিগ্রেশন লেভেল প্ল্যানে স্থায়ী বাসিন্দাদের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ৫০০,০০০ থেকে কমিয়ে ৩৯৫,০০০ করা হয়েছে।
এক্সপ্রেস এন্ট্রি (Express Entry) পরিবর্তন: এক্সপ্রেস এন্ট্রি প্রোগ্রামের অধীনে ফেডারেল হাই-স্কিলড বিভাগকে দুটি নতুন উপবিভাগে ভাগ করা হবে: ‘ইন-কানাডা ফোকাস’ (In-Canada Focus) এবং ‘ফেডারেল ইকোনমিক প্রায়োরিটিস’ (Federal Economic Priorities), যেখানে স্বাস্থ্যসেবা, ট্রেড এবং ফরাসি ভাষার দক্ষতাসম্পন্ন প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
ওয়ার্ক ভিসার সুযোগ: শ্রমবাজারের ঘাটতি পূরণে নির্দিষ্ট কিছু খাতে (স্বাস্থ্য, নির্মাণ, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষি) দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য ওয়ার্ক ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।
এই পরিবর্তনগুলো মূলত ভিসা জালিয়াতি রোধ, আবাসন সংকট মোকাবিলা এবং শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ করার সরকারি প্রচেষ্টার অংশ।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
টেলিভিশন হয়ে গেছে এখন অযোগ্য লোকের আস্তানা – জাবেদ ইকবাল তপু



























