অপরাধ প্রতিবেদকঃ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এক কর্মকর্তা অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে গোপন অনুসন্ধানের কথা জানিয়ে এক ব্যবসায়ী থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেছেন।
তিনি টাকা না দিলে দুদক সদর দপ্তরে মামলার সুপারিশ করে প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলে ব্যবসায়ীকে ভয়ভীতি দেখান।
ঘুষ দাবি করা ওই কর্মকর্তা হলেন দুদকের বাগেরহাট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) আবুল হাশেম।
বাগেরহাটের স্থানীয় ঠিকাদার এস আর ট্রেডার্সের স্বত্বাধীকারী শহিদুল ইসলাম সোহেলের কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন দুদক কর্মকর্তা আবুল হাশেম। পরে আলোচনার মাধ্যমে ৫ লাখে বিষয়টি রফা হয়। এই ৫ লাখ টাকা পরিশোধ কীভাবে হবে, এ নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে গতকাল সোমবার ওই ব্যবসায়ী ঘুষ না দেওয়ার পরিকল্পনা করে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক প্রধান কার্যালয়ে এসে উপস্থিত হন। বিষয়টি অবহিত করতে এসে কমিশনের চেয়ারম্যানকে না পেয়ে দুদকের জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তা আকতারুল ইসলামের সহযোগিতা চান তিনি।
পরে ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম সোহেল দুদকে উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর দুদক কর্মকর্তা আবুল হাশেম তাকে খুলনার বাসায় ডেকে তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে গোপন অনুসন্ধান চলছে বলে জানান। একইসঙ্গে এসব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেতে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। পরে তিনি ৫ লাখ টাকা দিয়ে আপস করতে রাজি হন।
ঘুষ দাবির অভিযোগের প্রমাণ দেখাতে দুদকের ওই কর্মকর্তাকে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনেই তাৎক্ষণিকভাবে মোবাইল ফোনে কল দেন ব্যবসায়ী সোহেল। ৫ লাখ টাকার মধ্যে ২ লাখ টাকা জোগাড় করতে পেরেছেন বলে ফোনে আবুল হাশেমকে জানান।
তিনি দুদক কর্মকর্তাকে বলেন, স্যার আমি তো আসতে পারিনি, একটা কাজে ঢাকায় আছি। ছোট ভাইকে দিয়ে টাকাটা পাঠাব কি? আপনি যদি চান ব্যাংকেও জমা করে দিতে পারি।
জবাবে আবুল হাশেম বলেন, না না, আপনার ছোট ভাই খুলনা থাকে, নাকি বাগেরহাটে? তখন ব্যবসায়ী বলেন, ও খুলনায় থাকে। খুলনা থেকে নেবেন, নাকি বাগেরহাট অফিসে নেবেন। এরপর দুদক কর্মকর্তা বলেন, আচ্ছা খুলনা থেকেই নেব।
তারপর ব্যবসায়ী বলেন, স্যার, আমি তো ৫ লাখ ম্যানেজ করতে পারিনি, ২ ম্যানেজ করেছি। আপনি তো জানেন জমি বিক্রি করে চলছি। এরপর দুদক কর্মকর্তা বলেন, ঠিক আছে, আরেকটু বাড়ায়ে দিয়েন, বাকিটা পরে দিয়েন। দুজনের কথোপকথন শেষ হলে উপস্থিত সাংবাদিকরা ওই কর্মকর্তার ফোন নম্বর মিলিয়ে ঘটনার সত্যতা পান। পরে আবুল হাশেমকে এক সাংবাদিক ফোন করে ব্যবসায়ীর কাছে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি এবং তাদের মধ্যে আলাপচারিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। জবাবে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে নামাজ পড়তে যাচ্ছেন বলে জানিয়ে ফোন কেটে দেন।
পরে ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম সোহেল গণমাধ্যমে বলেন, আমি একজন পুরস্কারপ্রাপ্ত করদাতা। স্থানীয়ভাবে সর্বোচ্চ করদাতার পুরস্কার পেয়েছি। আমার কোনো অবৈধ টাকা নেই। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা মিথ্যা-বানোয়াট। আমাকে ঘুষের টাকা দেওয়ার জন্য বারবার চাপ দেওয়া হয়েছে। প্রতিকার পাওয়ার আশায় দুদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ জানাতে এসেছি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, অসৎ কর্মকর্তাদের ব্যাপারে বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কারও বিরুদ্ধে ঘুষ, অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ার পর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেলেই তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়।
ঘুষ গ্রহণ, অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে সম্প্রতি দুদকের ছয় কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে দুদক।
আরও সংবাদ পড়ুন।
এনআইডি তথ্য পাচার মামলার আসামিকে সচিব পদে নিয়োগ; দুদকের অভিযান
আরও সংবাদ পড়ুন।
বন বিভাগের দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের সাথে অসাধু যোগসাজশে শত শত কোটি টাকা পাচার
আরও সংবাদ পড়ুন।
এনবিআর এর সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা রাজীব রায় ও তার সঙ্গী মাইনুদ্দীন ঘুষের টাকা সহ গ্রেফতার
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন৷
আরও সংবাদ পড়ুন৷
কর অঞ্চল-৫ এর সহকারী কর কমিশনার জান্নাতুল ফেরদৌস মিতু বরখাস্ত
আরও সংবাদ পড়ুন৷
আরও সংবাদ পড়ুন৷
রাষ্ট্রের গোপন নথি ফাঁস: এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব মুকিতুলের বিরুদ্ধে মামলা
আরও সংবাদ পড়ুন৷
আরও সংবাদ পড়ুন৷
রাষ্ট্রের গোপন নথি ফাঁস: এনবিআরের দ্বিতীয় সচিব মুকিতুলের বিরুদ্ধে মামলা
আরও সংবাদ পড়ুন৷
আরও সংবাদ পড়ুন৷
ঢাকা দক্ষিণ বন্ডে কমিশনার মোহাম্মদ লুৎফর রহমান এর নেতৃত্বে ঘুষ বাণিজ্য; নিরব উপর মহল
আরও সংবাদ পড়ুন৷
আরও সংবাদ পড়ুন৷
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (nbr) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানপুলিশ পাহারায় অফিস করলেন

























