ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাসিত সাত্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়
অপরাধ প্রতিবেদকঃ ৬.৫ বছরের স্বল্প চাকরি জীবনে সবচেয়ে এনজয় করেছি এসি(ল্যান্ড) পোস্ট। দুইটা স্টেশনে এসি(ল্যান্ড) হিসেবে চাকরি করেছি, প্রথমে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ, পরে ভোলার বোরহানউদ্দিন। সবসময় চেষ্টা করেছি জনগণকে সর্বোচ্চ সেবাটা দেয়ার (কতটা দিতে পেরেছি, সেটা জনগণই ভালো বলতে পারবে)। কিন্তু সেবা নিতে যেয়ে এখন পাচ্ছি, উলটা চিত্র।
ঘটনা ১:
০৪ আগস্ট ২০২৫:
আমার কলেজের শ্রদ্ধেয় একজন শিক্ষক একটা নামজারির আবেদন করে আমাকে ফোন করে বললেন, তার একটা নামজারি খুব জরুরি ভিত্তিতে দরকার। সে কি দালাল ধরবেন না কি আমি কোনভাবে হেল্প করতে পারবো। বড়মুখে বললাম, “স্যার, দালাল ধরবেন কেন? আমি দেখতেছি।”
এরপর এসি(ল্যান্ড), ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট সার্কেল-কে ফোন করে ঘটনাটা বললাম, অনুরোধ করলাম যেন নামজারি কেস নং ২৪৪২টা একটু দ্রুত আইনানুগভাবে নিষ্পত্তি করে।
কিন্তু ১ সপ্তাহ যায়/২ সপ্তাহ যায়, কেসটা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা (ULAO), এর আইডিতেই পড়ে থাকে। এরপর ঢাকার অন্য ২জন এসি(ল্যান্ড)-কে দিয়ে বলাইলাম, কিন্তু তাতেও কিছু হয় না। উপায় না দেখে ভূমি মন্ত্রণালয়ের একজন স্যারকে বিষয়টা বললাম, ঢাকার একজন এডিসি স্যারকে দিয়েও বলাইলাম, কিন্ত স্যারকে জানালো, “এটা নিয়ে মিসকেস আছে”।
এরপর ৩ সপ্তাহ শেষেও কোন অগ্রগতি নাই। বাধ্য হয়েই কমন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে একটা আক্ষেপ মেসেজ দিলাম, এরপর একটা ভায়া হয়ে ফিডব্যাক পেলাম, কারিগরি সমস্যার কারণে পূর্বের নামজারি খতিয়ান এন্ট্রি দিতে না পারায়, নতুন নামজারির প্রস্তাব দেয়া যাচ্ছে না। কিন্তু আমার এক ব্যাচমেট এ সমস্যা সমাধানের জন্য, তার কাছে সমস্যার একটা স্ক্রিনশট চাইলো, তাকেও স্ক্রিন শট দেয় নি। আবার একই নামজারি বিষয়ে আগে ঢাকার এডিসি স্যারকে দিয়েছে মিসকেসের এক্সকিউজ। বুঝলাম, এটা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ চাপা দেয়ার জন্য একটা মিথ্যা এক্সিকিউজ মাত্র।
৩১ আগস্ট ২০২৫: আজ কেসটার ২৮দিন হলো। কেসটা আজও কেন ULAO মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান সাহেবের আইডিতে পড়ে আছে, যেখানে মন্ত্রণালয়ের ম্যান্ডেট ২৮ দিনের মধ্যে নামজারি নিষ্পত্তি করা? যদি কাজের অত্যধিক প্রেসার থাকে, সেক্ষেত্রে ২৪৪২ কেসের পরের কোন কেস নিষ্পত্তি হয়েছে কি না তা জানতে চাই। কারিগরি কোন সমস্যা থাকলে, তার প্রমাণ দেয়া হোক এবং সে সমস্যা সমাধানে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে সেটা জানানো হোক।
আমার শিক্ষক আমাকে ফোন দিচ্ছেন, আমি ফোনটা লজ্জায় ধরতে পারছি না (স্যার, আপনি এ স্ট্যাটাস দেখে থাকলে, আমি আপনার কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও অনুতপ্ত)।
এবং আমি চাই, এ লজ্জাটা বিসিএস(এডমিন) সার্ভিসের সবাই পাক।
ঘটনা ২:
২২ জুন ২০২৫: রাত ১০.০০টায় পরিচিত এক আঙ্কেল এসে কাঁদো কাঁদো ভাবে বললেন, তার একটা নামজারি বহুদিন ধরে নিষ্পত্তি করা হচ্ছে না, এটা তার খুবই দরকার। একেক সময়ে একেক সমস্যার কথা বলতেছে ক্যান্টনমেন্ট সার্কেল ভূমি অফিস থেকে, কখনও ওয়ারিস সনদ ঠিক নাই, কখনও এটা না কি শত্রু সম্পত্তি-নামজারি করা যাবে না, এমন তথ্য।
বিষয়টা আসলে কী তা একটু জেনে নামজারিটা নিষ্পত্তি করার জন্য ঢাকার একজন সিনিয়র সহকারী কমিশনার কে দিয়ে ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলের এসি(ল্যান্ড) সাহেবকে বলাইলাম।
রিকোয়েস্ট করার পর ১ সপ্তাহ যায়/২ সপ্তাহ যায়/৩ সপ্তাহ যেয়ে ৪র্থ সপ্তাহও শেষ হয়: এসি(ল্যান্ড) সাহেব, সেই সিনিয়র সহকারী কমিশনারের কথার কোন পাত্তাই দেয় না। শেষে ঢাকার এক এডিসি স্যারকে বলার পর উক্ত নামজারি আবেদনটি মঞ্জুর হয়। বিষয়টি দাড়াচ্ছে, উক্ত কেসটি এডিসি স্যার না বললে, অযথাই (না কি ঘুষের লোভে?) আরও কয়েক মাস তার আইডিতেই পড়ে থাকতো।
ঘটনা-৩:
কেস নং: ৯৫, আমার এলাকার এক আঙ্কেল এসে বললেন, তার এই নামজারিটা বহুদিন ধরে আটকে রেখেছে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলের এসি(ল্যান্ড) সাহেব। এসি(ল্যাল্ড) সাহেবের বক্তব্য, এই জমি নিয়ে মিসকেস থাকায় নামজারি করা যাবে না।
কেসের সংশ্লিষ্ট কাগজপত্রগুলো দেখলাম। ওয়ারিশি সম্পত্তি ০৫ ভাই এর প্রত্যেকে ৬.৫০ শতাংশ করে পাবে। তবে, এক ভাই (ক) নামজারি করেছে ৭.৫০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রাপ্যতা থেকে ১ শতাংশ বেশি নামজারি করিয়েছে, এটা নিয়েই আরেক ভাইয়ের মিসকেস। কিন্তু ক্রেতা উক্ত ক ভাই থেকে জমি ক্রয়ের সময় ৭.৫০ শতাংশ নয়, ৬.৫০ শতাংশই ক্রয় করেছে। তাই, মিসকেসের সাথে তার এই ৬.৫০ শতাংশ সম্পর্কযুক্ত নয়। তবুও তার নামজারি মিসকেসের দোহাই দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।
পুনশ্চ:
০১) ৩টা ঘটনা উল্লেখ করলেও, গত ০৫/০৬ মাসে ভূমি বিষয়ে এত অভিযোগ/তদবির এলাকাবাসী/পরিচিত জনদের থেকে পেয়েছি সেটা বর্ণনাতীত। ঢাকার এমন গুরুত্বপূর্ণ একটা স্থানে এমন কাউকে নিয়োগ দেয়ার বিষয়টা কর্তৃপক্ষের ভেবে দেখা উচিত। ক্যান্টনমেন্ট সার্কেলের একজন অধীবাসী হিসেবে, তার দ্রুত অপসারণ চাই।
০২) জনতা হিসেবে উপরে উল্লিখিত এসি(ল্যান্ড) এর ক্রেডিবিলিটি নিয়ে আমার চরম সন্দেহ হয়। তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান চাই ব্যক্তিগতভাবে। সাংবাদিকরাও ইনভেস্টিগেটিভ রিপোর্ট করতে পারেন।
০৩) কেউ ইনবক্সে সার্ভিস ওউন করার জ্ঞান দিতে আসবেন না প্লিজ। আমি বিশ্বাস করি এসি(ল্যান্ড) দের একটা বড় অংশই সৎ/ডেডিকেটেড, কিন্তু ৫-১০% এর জন্য বাকিসব এসি(ল্যান্ড)সহ বিসিএস(এডমিন) ক্যাডারের অবমাননা হোক সেটা আমি চাই না। এই ৫-১০% এর ঝড়ে যাওয়াই আমি মনে-প্রাণে চাইবো।
০৪) ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট সার্কেল খুব ব্যস্ত সার্কেল, এই লেম এক্সকিউজ কেউ দিতে আসবেন না। ব্যস্ত স্টেশন পার করেছি, ভোলায় মাত্র ০৪ মাসে ০৫টা ইলেকশন করেছি, তখন অফিসেই বসতে পেরেছি খুব কম, তখনও কারও অনুরোধ এভাবে ইগনোর করিনি। ব্যস্ততার জন্য কোন অনুরোধ ভুলে যেতেই পারে যে কেউ। কিন্তু একই বিষয়ে ১৫/২০ বার বলেও কোন ফিডব্যাক না পাওয়ার কোন উত্তর হয় না।
এই বিষয়ে ক্যান্টনমেন্ট রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাসিত সাত্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে তার মুঠোফোনে কল করলে রিসিভ করেন নি। বরং what’s up নাম্বারে জানান, রজস্ব মিটিংয়ে ডিসি অফিসে ব্যস্থ আছেন তিনি।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার নিয়ে বিপাকে; লেজেগোবরে অবস্থা জনপ্রশাসনে
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
প্রথম নারী শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন, নতুন তিন সচিব তিন মন্ত্রনালয়ে
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
সারাদেশে জলাশয়গুলো চিহ্নিত করে দেশি মাছের প্রজাতি রক্ষা করতে হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
আরও সংবাদ পড়ুন।
প্রথম নারী শিক্ষা সচিব রেহানা পারভীন, নতুন তিন সচিব তিন মন্ত্রনালয়ে
আরও সংবাদ পড়ুন।
দেশের জলাশয় রক্ষায় আমরা কাজ করে যাব – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
আরও সংবাদ পড়ুন।
মৎস্যসম্পদ রক্ষায় দেশবাসীকে পরিবেশের প্রতি সদয় হওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
আরও সংবাদ পড়ুন।
এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে মানুষের অধিকার কখনো ক্ষুণ্ণ হবে না – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
আরও সংবাদ পড়ুন।
আগামী ১৮ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৫
আরও সংবাদ পড়ুন।
গভীর সমুদ্রে মাছ ধরা কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
গবাদিপশুর রোগ প্রতিরোধে সময়মতো ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
আরও সংবাদ পড়ুন।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
কৃষকের চেয়ে বড় প্রাইভেট সেক্টর আর কি হতে পারে – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
আরও সংবাদ পড়ুন।
ইলিশের বাড়ি ভোলা আর বিভাগ বরিশাল – মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা


























