পেকুয়ার ইউএনও’র বদলির আদেশ স্থগিত

PicsArt_05-01-04.18.38.jpg

পেকুয়ার ইউএনও’র বদলির আদেশ স্থগিত

জেলা প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারে ত্রাণের ১৫ টন চাল উত্তোলনের পর গায়েব হওয়ার ঘটনায় প্রত্যাহার হওয়া পেকুয়া উপজেলার আলোচিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈকা সাহাদত’র (১৭২৮২) বদলির আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা কর্তৃক স্বাক্ষরিত শুক্রবার সংস্থাপন শাখার ২৬৯ নাম্বর স্মারকে জারিকৃত এক আদেশে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।

একই আদেশে কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাজমা সিদ্দিকা বেগমকে (১৬৮৬৭) পেকুয়ার নতুন ইউএনও হিসাবে দেওয়া নিয়োগ আদেশও স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা স্বাক্ষরিত ২৬৭ নাম্বার স্মারকে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে নাজমা সিদ্দিকা বেগমকে কক্সবাজারে পেকুয়ার নতুন ইউএনও হিসাবে নিয়োগ দিয়ে আগামী ৩ মের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছিলো এবং সাঈকা সাহাদাতকে ২৬৬ নম্বর স্বারকে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ দেয়া হয়েছিল।

চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ত্রাণ নিয়ে নয়-ছয়ের ঘটনা তদন্তের স্বার্থে আপাতত ইউএনও’র বদলির আদেশ স্থগিত করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি একটি রুটিন বদলি। তাই যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। আপাতত ওই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পেকুয়াতে-ই থাকছেন। এমন ঘটনা আমার ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে। কে জানে কাল আমি বদলি হবো না।’

এ সময় সেই ইউএনও’র ত্রাণ নিয়ে নয়-ছয়ের ঘটনার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সুর বদলে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘আসলে ওই ঘটনা তদন্তে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ অবস্থায় বিভাগীয় অভিযুক্ত ইউএনও’র আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ আছে। তাই তিনি আরো কয়েকদিন পেকুয়ায়ই দায়িত্ব পালন করবেন। এর পরই আগের নির্দেশনাটি কার্যকর হবে।’

২৭ এপ্রিল ত্রাণের চাল গায়েবের ঘটনা প্রকাশের পর এবং পেকুয়ার বারবাকিয়া হোসনে আরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩০০ বস্তা চাল জব্দের ঘটনায় ‘পেকুয়ায় ত্রাণের ৩০০ বস্তা জব্দ চাল নিয়ে চলছে চালবাজি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে তদন্তে নামে জেলা প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থা।

সেই তদন্তেই জানা যায়, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখা থেকে ২০১৯ সালের ২৯ জুলাই মানবিক সহায়তা হিসেবে পেকুয়ার টেইটং ইউনিয়নে ৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। ইতোমধ্যে ২৫ টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। বাকি ১৫ টন চকরিয়ার খাদ্য গুদামে মজুত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি করোনাভাইরাসের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর, রিকশাচালক ও অসহায় দুস্থ পরিবারের জন্য সরকারের নতুন বরাদ্দ আসছে জেনে গুদাম খালি করতে ২০১৯ সালের বরাদ্দের সেই ১৫ মেট্রিক টন চাল উত্তোলন করতে গত ৩১ মার্চ টেইটং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম চৌধুরীর অনুকূলে পরিপত্র স্বাক্ষর করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈকা সাহাদাত। সেই সব চালের ৩ টন ৬ এপ্রিল, বাকি চাল ৯ এপ্রিল পৃথক স্বাক্ষরে তোলেন উল্লেখিত ইউপি চেয়ারম্যান।

তবে উত্তোলন করা চাল কী করা হয়েছে এ হিসাব ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা ইউএনও কারও কাছে নেই। দীর্ঘ প্রচেষ্টা চালিয়েও বরাদ্দকৃত ওই চালের কোনো হদিস মেলেনি এখনও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top