সাব-রেজিস্ট্রার নেই ভোলার চার উপজেলায়; ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পদ, এলপিআরে যাওয়ার পর আরও প্রকট সংকট; সেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা।
সাগর চৌধুরীঃ ভোলা জেলার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসগুলোতে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট এখন চরম আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ লালমোহন উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম গত ১৫ জুন ২০২৬ অবসরোত্তর ছুটিতে (এলপিআর) যাওয়ার পর জেলার চারটি গুরুত্বপূর্ণ সাব-রেজিস্ট্রার অফিস কার্যত স্থায়ী কর্মকর্তা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লালমোহনে দায়িত্ব পালনকালে মোঃ মঞ্জুরুল ইসলাম শুধু নিজ অফিসেই নয়, মনপুরা, চর শশীভূষণ ও দক্ষিণ আইচা সাব-রেজিস্ট্রার অফিসেও খণ্ডকালীন দায়িত্ব পালন করতেন। তাঁর অবসরের পর এসব অফিসে কর্মকর্তা শূন্যতা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে ভোলা জেলার মোট নয়টি সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র দুইজন কর্মকর্তা। এর মধ্যে মোঃ মামুন সিকদার তাঁর মূল কর্মস্থল ভোলা সদর ছাড়াও বাংলাবাজার ও তজুমদ্দিন অফিসের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। অপরদিকে কাওসার খান চরফ্যাশনের পাশাপাশি বোরহানউদ্দিন অফিসের দায়িত্ব পালন করছেন।
একাধিক অফিসে দায়িত্ব, বাড়ছে চাপ সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, একজন কর্মকর্তাকে একাধিক উপজেলায় দায়িত্ব পালন করতে হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। দ্বীপাঞ্চল ও নদীবেষ্টিত এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সময়মতো অফিসে উপস্থিত থাকা এবং সেবা নিশ্চিত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, একটি অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনাই যেখানে চ্যালেঞ্জিং, সেখানে দুই থেকে তিনটি অফিসের দায়িত্ব একসঙ্গে পালন করতে গিয়ে মানসিক ও প্রশাসনিক চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। এতে দলিল নিবন্ধন, নামজারি সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এবং সেবাগ্রহীতাদের অপেক্ষার সময়ও বৃদ্ধি পেতে পারে।
সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শঙ্কা
স্থানীয়দের অভিযোগ, কর্মকর্তা না থাকলে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত দিনে দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। ফলে জমি ক্রয়-বিক্রয়, ব্যাংক ঋণ, উত্তরাধিকার সম্পত্তি হস্তান্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিলম্বিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিবন্ধন বিভাগে জনবল সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে সরকারি রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ দলিল নিবন্ধনের মাধ্যমে সরকার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব আয় করে থাকে।
ভোলা জেলার ভিন্ন উপজেলায় দলিল লেখকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এখানে কাজে খুব সমস্যা হচ্ছে। সাবরেজিস্টার না থাকলে দলিল করা যায় না।
জেলা রেজিস্ট্রারের স্বীকারোক্তিঃ
ভোলা জেলা রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ মোঃ নূর নেওয়াজ গণমাধ্যমকে বলেন, জেলার সাব-রেজিস্ট্রার সংকট বাস্তব এবং উদ্বেগজনক। তিনি জানান, বিষয়টি নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, শূন্য পদগুলোতে দ্রুত কর্মকর্তা পদায়ন করা হলে জেলার নিবন্ধন সেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
প্রশ্ন রয়ে গেছে, প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে কর্মকর্তা সংকট চললেও কেন শূন্য পদগুলো পূরণ করা হয়নি? একজন কর্মকর্তার ওপর একাধিক অফিসের দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে কতদিন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবা সচল রাখা সম্ভব?
ভোলার মতো বৃহৎ ও বিচ্ছিন্ন ভৌগোলিক অঞ্চলে নিবন্ধন সেবার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে দ্রুত জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আরও সংবাদ পড়ুন।
ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রারসহ দুই সাব-রেজিস্ট্রারের দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্য
আরও সংবাদ পড়ুন।
দুর্নীতি ঠেকাতে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সিসিটিভি ক্যামেরা বসাতে হাইকোর্টের রুল
আরও সংবাদ পড়ুন।
সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন প্রত্যাহার, বিভাগীয় মামলা
আরও সংবাদ পড়ুন।
সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের দুর্নীতির খোঁজে আইন মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধানী কর্মকর্তা
আরও সংবাদ পড়ুন।
সাভারের সাবরেজিস্ট্রার জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে তদন্তের সিদ্ধান্ত
আরও সংবাদ পড়ুন।
সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির সম্পদের পাহাড় গড়েছেন; সংবাদ প্রকাশে হুমকি দিলেন সাংবাদিকে
আরও সংবাদ পড়ুন।
জাল দলিল মামলায় সাব-রেজিস্ট্রার মনীষা রায় কারাগারে, সন্ধ্যায় জামিন
আরও সংবাদ পড়ুন।
কালামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম ও দূর্নীতি – দুদকের অভিযান
আরও সংবাদ পড়ুন।
উত্তরা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়ম ও দূর্নীতি; ১৫ দিনের সময়সিমা উপেক্ষিত
আরও সংবাদ পড়ুন।
তেজগাঁও রেজিস্ট্রেশন কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ঘুস বিনিময়ের অভিযোগে – দুদকের অভিযান
আরও সংবাদ পড়ুন।
অহিদুল ইসলাম ঢাকা জেলা রেজিস্ট্রার দুর্নীতি মামলায় কারাবন্দি; ৫ দিনেও সাময়িক বরখাস্ত হয়নি
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
নিবন্ধন অধিদপ্তরের দালাল দুর্নীতিবাজ চক্র; তেজগাঁও রেজিস্ট্রার ভবনের দূর্নীতি ও অনিয়ম
আরও সংবাদ পড়ুন।
রাজধানীর পল্লবী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ঘুসের বিনিময়ে জমির শ্রেণি পরিবর্তন – দুদকের অভিযান
আরও সংবাদ পড়ুন।
ঢাকার কালামপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে হয়রানি, ঘুষ বানিজ্য ও দুর্নীতি – দুদকের অভিযান
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
সাব-রেজিস্ট্রার মোশারফ হোসেনের এক দলিলে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
রেজিস্ট্রেশন বিভাগ নিয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মন্তব্যে নিন্দা
আরও সংবাদ পড়ুন।
২০ জেলায় নতুন জেলা রেজিস্ট্রার; ১০ সাব-রেজিষ্টারের জেলা রেজিস্ট্রার হিসাবে পদোন্নতি



























