একটি সুবিধাও ছেড়ে দেননি। পত্রিকার মিডিয়া তালিকাভূক্তির জন্য কমপক্ষে ৫ লাখ। অবশ্য ভাগাভাগি করতেন এক মরহুমের (আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুন) সাথে। এমন অসংখ্য অসততার সত্যতা আছে।
একজন সাংবাদিক হিসেবে কত টাকা মাইনে পেলে আপনি সিদ্ধেশ্বরী বা তার আশেপাশে ২৮শ স্কয়ার ফিটের একটা ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন?
উনার আছে। উত্তরায় রাজউকের প্লট আছে দু’টো। পূর্বাচল এবং ঝিলমিলেও আছে— নামে-বেনামে। টিভির লাইসেন্স আছে।
যাইহোক, সব মিলিয়ে টাকার অংকে কত হয়— আমি জানি না।
আমার কথায় সত্য-মিথ্যা কিছু যদি থাকে— আশা করি তা অনুসন্ধানের দায়িত্ব নেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখন একটি পূর্ণাঙ্গ এবং সঠিক পরিসংখ্যান উঠে আসবে। আজ আমার কথা বিশ্বাস করবার দরকার নাই।
বহুবছর আগে আমি একটি হিন্দি মুভি দেখেছিলাম।
বড়লোকের ছেলেদের একটি বন্ধু গ্রুপ ছিলো— খলনায়কের ভূমিকায়। বাপ-দাদার বিজনেস দেখভাল করার দায়িত্ব তাদেরই। সন্ধ্যার পরে তারা পানশালায় গিয়ে ‘সুরা-সাকি’ নিয়ে পড়ে থাকতো।
এর বাইরে যেখানে সেখানে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতো। মাঝে-মধ্যে সুযোগ বুঝে সুন্দরী নারীদেরকে রাস্তা থেকে জোর-জবস্তি গাড়িতে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করতো।
ওই মুভির নায়িকাকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করেছে সিনেমার প্রধান খলনায়ক। নায়িকা উপায় না পেয়ে আদালতে মামলা ঠুকে দিয়েছে।
পয়সাওয়ালা ও শক্তিশালী খলনায়ক আইনের ফাঁক-ফোকড় দিয়ে বেরিয়ে গেছে। খলনায়ক আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে— ওটা ধর্ষণ ছিলো না। মেয়েটি স্বেচ্ছায় তার সঙ্গে শুয়েছিল।
একে তো ধর্ষিত হয়েছে— তারওপর আদালতেও বিচার পেলো না। সমাজের চোখেও সে ধান্ধাবাব্জ নারী হিসেবে তিরষ্কৃত হলো মুভির ওই নায়িকা।
এরপর সে ভাবলো, বদলা নিতে হবে। সমাজে যেসব ধর্ষিত নারী ছিল, তাদেরকে সে খুঁজে বের করল। সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি ক্লিনিক খুলল।
তারপর সব নারী আলাদাভাবে ওইসব ধর্ষকদের আড্ডার জায়গাগুলোতে মানে পানশালায় গিয়ে একেকজনের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করলো। মদ গিললো একসাথে। চেতনানাশক কৌশলে মদের সাথে মিশিয়ে খাইয়ে দিলো।
মাতাল অবস্থায় ধরে ধরে গাড়িতে তুলে সরাসরি ক্লিনিকে নিয়ে ধর্ষণযন্ত্রটি অপারেশন করে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে রাতের মধ্যেই ফের গাড়িতে উঠিয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন এরিয়ায় গিয়ে লাত্থি মেরে রাস্তার পাশে ফেলে — গাড়ি নিয়ে সটকে পড়ে।
এরকম একাধিক ঘটনার পরে সাংবাদিকরা দু-একটা ঘটনা নিয়ে টেলিভিশনে সংবাদ প্রকাশ করে।
শিরোনাম ছিলো এরকম—
‘ধর্ষকদের গোপনাঙ্গ কেটে দিচ্ছে একটি ধর্ষিতা গ্রুপ।’
ধর্ষকদের বৌ-রা এসব খবর ফাঁস করে দিয়েছিলো স্বামীর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে।
কিন্তু কোনও ধর্ষক এবিষয়ে অভিযোগ না করার কারণে ঘটনাগুলো সত্যি হলেও মামলা হয়নি। এবং বিনা বাধায় ধর্ষিতারা পরবর্তী কার্যক্রম মানে ধর্ষকদেরও নুনু কাটতে থাকলো। সমাজে যেখানেই ধর্ষণের ঘটনা ঘটতো— ওই নারীরা তাকে ছলে বলে ধরে এনে —কাট!
সাংবাদিক কিমউনিটির উচ্চপর্যায়েে নেতা
আমাদের মনজুরুল আহসান বুলবুল ভাই
১৭ বছরের অভিভাবক ছিলেন আমাদের (এখন নেই)। এক অনুষ্ঠানে আমাদের এক সাংবাদিক নেতা বললেন, এবার বক্তব্য রাখবেন, “আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্য সাংবাদিক…..ইত্যাদি!”
তার কারণে বিশেষ করে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের ভোট কাউন্টিংয়ে ও ফলাফলের বিষয়টি বরাবরই প্রশ্নবিদ্ধ ছিলো।
তিনি নির্বাচন পরিচালনা কমিটিতে না থাকলেও ভোটের ফলাফল উল্টোপাল্টা করার অভিযোগের তীর তার দিকেই যেত!
তার মতের বিরুদ্ধে কথা বলার কেউ ছিলো না বিগত ১৭ বছরে— এই কমিউনিটিতে।
আমার এই কথার প্রমাণ দিয়ে পরে আরেকবার খোলামেলা আলোচনা করবো। আজ নয়। আজ অন্য বিষয়।
আজ স্মৃতির পাতা থেকে দু’কলম।
শরৎ বাবুর ‘নারীর মূল্য’ প্রবন্ধে তিনি সমাজে নারীর অবস্থান, সম্মান ও অধিকার নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছেন।
এই প্রবন্ধে শরৎচন্দ্র দেখাতে চেয়েছেন—
সমাজে নারীকে প্রায়ই অবমূল্যায়ন করা হয়। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ নারীর প্রকৃত মূল্য বোঝে না।
তিনি যুক্তি ও আবেগ দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন যে, নারীর সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া সমাজের জন্য অপরিহার্য।
সুতরাং বহুকাল আগে থেকেই নারীরা অবহেলিত— পুরুষতান্ত্রিকতার বেড়াজালে। এখন অব্দি চলমান। শরৎ বাবুদের চোখেও ‘নারী নির্যাতন’ কাঁটার মতো বিঁধেছে। আমাদেরও চোখে বেঁধে!
সাংবাদিক নাকি সমাজের বিবেক। বিবেকবান সাংবাদিক বুলবুল ভাইদের চোখে—
‘নারী’ দেখতে কেমন?
তার হাতে অনেক ক্ষমতা ছিল। তিনি চাইলেই কোনও নারীকে চাকরি দিতে পারতেন, বহিষ্কার করতে পারতেন, কাউকে মাসের পর মাস Standby রেখে ক্যারিয়ার নষ্ট করে দিতে পারতেন। এর সব কিছুই করতে পারতেন— কথা না শুনলে।
কী কথা তার সাথে— তাহার সাথে?
এই প্রশ্নের জবাব দেবেন জীবনানন্দ দাস।
সব অত্যাচার সহ্যের যেমন সীমা থাকে— লঙ্ঘণ হয়েছিল সীমা— একদিন।
যে কারণে ২০১৯ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি আমিও একজন সাক্ষি হয়ে গেলাম— বুলবুল ভাইয়ের অপকর্মের।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ২১শে টেলিভিশন থেকে তার অপসারনের দাবি নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের নারী-পুরুষ এক হয়ে রাস্তায় নামলো সেদিন। আমরাও দাঁড়িয়েছিলাম মানববন্ধনে। শ্লোগান কী ছিলো— ছবির ব্যানার-প্ল্যাকার্ডে দেখে নেবেন।
শরৎ বাবু লিখলেন,
“মণি-মাণিক্য মহামূল্য বস্তু, কেন না, তাহা দুষ্প্রাপ্য। এই হিসাবে নারীর মূল্য বেশী নয়, কারণ, সংসারে ইনি দুষ্প্রাপ্য নহেন। জল জিনিসটা নিত্য-প্রয়োজনীয়, অথচ ইহার দাম নাই। কিন্তু যদি কখন ঐটির একান্ত অভাব হয়, তখন রাজাধিরাজও বোধ করি একফোঁটার জন্য মুকুটের শ্রেষ্ঠ রত্নটি খুলিয়া দিতে ইতস্ততঃ করেন না। তেমনি—ঈশ্বর না করুন, যদি কোনদিন সংসারে নারী বিরল হইয়া উঠেন, সেই দিনই ইঁহার যথার্থ মূল্য কত, সে তর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হইয়া যাইবে—আজ নহে। আজ ইনি সুলভ।”
বুলবুল ভাইদের কাছে গত ১৭ বছরে নারী ছিলো সুলভ। তাদের ক্ষমতার কারণে— নারী সুলভ। টাকার কারণে নারী— সুলভ। সাংবাদিকতা পেশার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে থাকার কারণে নারী— সুলভ। নারীদের অসহায়ত্বের কারণে নারী— সুলভ। শিক্ষিত-জ্ঞানী নারীদের পেশায় টিকে থাকার কারণে নারী— সুলভ। অর্থনৈতিক অস্বচ্ছলতার কারণে নারী— সুলভ। দেশে বেকারত্বের হার বেশি হওয়ার কারণে নারী— সুলভ। দেশে শিক্ষার হার বেড়ে যাওয়ার কারণে এই পেশায় নারী— সুলভ। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকার কারণে নারী— সুলভ।
যদি কোনদিন এই পেশায় নারী সাংবাদিক বিরল হইয়া উঠেন, সেই দিনই ইঁহার যথার্থ মূল্য কত, সে তর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হইয়া যাইবে—আজ নহে। আজ নারী সাংবাদিক— সুলভ।
নারী সুলভ হলেও— ভুলে যাবেন না ওটার কথা। আমি যে হিন্দি মুভিটি দেখেছিলাম।
যে কোনও দিন, যে কোনও সময় মুছে যাওয়া দিনগুলোর মধ্য থেকে যে কোনও ধর্ষিতার নেতৃত্বে একটি ক্লিনিক খোলা হয়ে যেতে পারে— ঈশ্বর না করুন।
কেননা— সমঝোতা মানেই কিন্তু সমঝোতা নয়। মনের বিরুদ্ধে— বাধ্য হওয়া সমঝোতা নি:সন্দেহে— ধর্ষণ। চাকরি দেন অথবা চাকরি খেয়ে দেওয়ার ভয়ে সমঝোতা— মোটেও সমঝোতা নয়।
একটি প্রশ্ন রেখে গেলাম।
আমাদের/আমার স্ত্রী, মেয়ে, বোন, আত্মীয়া, অনাত্মীয়া— যে কোনও নারী (আমাদের অবর্তমানে) যদি আপনাদের কাছে কোনও সহযোগিতার জন্য যায়— আপনাদের হাতে তারা কতটা নিরাপদ?
লেখকঃ
সাইফ আলী
কবি ও সাংবাদিক।
সদস্য ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের বিষয়ে আপোষহীন হতে হবে – সৈয়দা রিজুয়ানা হাসান
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
জাতীয় প্রেসক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ স্থগিত বাসস এমডি মাহবুব মোর্শেদের
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান সম্পাদক পরিষদের
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিরোধী কালাকানুন বাতিলের দাবি সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
ডিআরইউ’র সভাপতি মুরসালিন নোমানী সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
যে সকল সাংবাদিকদের বহিষ্কারের দাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র অন্দোলনের
আরও সংবাদ পড়ুন।
এসিআরএফ’র আত্মপ্রকাশ – আহ্বায়ক তাওহীদ সৌরভ ও সদস্য সচিব রিশাদ হুদা
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
বাংলাদেশ মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ১৬৫তম; দুই ধাপ পিছিয়ে গতবারের চেয়ে
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সম্প্রচার-ব্যবস্থা যুগোপযোগী করা হবে : তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা
আরও সংবাদ পড়ুন।
২৫৪ জন সাংবাদিক পরিবারের মাঝে ১ কোটি ৬৩ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
বিটিভি-বেতারের স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত ও গণমাধ্যম নীতিমালা পর্যালোচনায় ৫ সদস্যের কমিটি গঠন
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
সংবাদমাধ্যম যত বেশি প্রশ্ন করবে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীলরা তত সচেতন হবে: মাহফুজ আলম
আরও সংবাদ পড়ুন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া
আরও সংবাদ পড়ুন।
যে সকল সাংবাদিকদের বহিষ্কারের দাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র অন্দোলনের
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।


























