তিন সাংবাদিক আদালতে আইনজীবীদের হেনস্তার শিকার।

Picsart_25-10-28_19-32-02-592.png
admin

তিন আইনজীবী।

আদালত প্রতিবেদকঃ সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে ঢাকার আদালতপাড়ায় জামায়াতপন্থি কয়েকজন আইনজীবীর দ্বারা হেনস্তার শিকার হয়েছেন তিন সাংবাদিক। পরবর্তীতে ওই তিন সাংবাদিককে কাঠগড়ায় ডেকে নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেন।

আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর ২০২৫) ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
কিছুক্ষণ পর ক্ষমা চাওয়ার শর্তে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটি (সিআরইউ)।

ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী ফারদিন নূর পরশ হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল আজ মঙ্গলবার। এ দিন আমাতুল্লাহ বুশরা এবং বাবা নুর উদ্দিন রানা আদালতে হাজির হন। তারা আদালত থেকে বের হওয়ার সময় ভিডিও ফুটেজ নিতে যান সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিবেদক মাসুদ রানা, একুশে টেলিভিশনের রিপোর্টার আরিফুল ইসলাম এবং দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার রিপোর্টার আরিফুল ইসলাম। তবে জামায়াতপন্থি আইনজীবী রেজাউল হক রিয়াজ ও হাতিরঝিল থানার জামায়াতের রোকন ও আইনজীবী আক্তারুজ্জামান ডালিমসহ অনেকেই ভিডিও করতে বাধা দেন।

সাংবাদিকরা পেশাগত কারণে ভিডিও করার কথা জানালে তারা আরও চড়াও হন। এ সময় তারা সাংবাদিকদের বিচারকের কাছে ধরে নিয়ে যেতে উদ্ধৃত হন জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা। তবে সাংবাদিকেরা জানান, আসামির ছবি বা ভিডিও নিতে আদালতের অনুমতির প্রয়োজন নেই। এই কথা বলায় উপস্থিত আইনজীবীরা ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালতের সামনে চারদিক থেকে ঘিরে ধরেন। এক পর্যায়ে আইনজীবী আক্তারুজ্জামান ডালিম সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং মামলার বাদী নুর উদ্দিন রানাকে দেখে হুমকি দিতে থাকেন।

বাদীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি সাংবাদিকদের ডেকে এনেছেন।’ এরপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াস তার আদালতে এই তিন সাংবাদিককে এজলাসে ডেকে নেন। এ সময় আইনজীবী রেজাউল হক রিয়াজ কৌশলে পালিয়ে যান।

তখন বিচারক তিন সাংবাদিককে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করান। বিচারক সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনাদের পরিচয় দেন।’ সাংবাদিকদের পরিচয় জানার পর বিচারক বলেন, ‘আপনারা কোর্টের সামনে হাঙ্গামা করেছেন। এখন ১১টা ৩৮ বাজে, আপনারাদের কারাগারে পাঠানো হবে। আর কোনও কথা হবে না।

আপনাদের সকলের মোবাইল নিয়ে নেওয়া হোক।’ মিনিট দুইয়েক পর বিচারক বলেন, ‘আপনারা নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলে ছেড়ে দেবো। না হলে কারাগারে যেতে হবে। কোনও ছাড় নেই।’ পরে এই তিন সাংবাদিককে ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি দেন আদালত।

সাংবাদিক মাসুদ রানা বলেন, ‘সংবাদ সংগ্রহে গেছিলাম। কিন্তু কয়েকজন আইনজীবী ভিডিও তুলতে বাধা দিয়ে মব সৃষ্টি করেন। পরে বিচারক অতিউৎসাহী হয়ে আমাদের তিনজনকে কাঠগড়ায় ডাকেন। আমাদের পরিচয় জেনে বিচারক বলেন, “আপনারা বসেন। সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হবে”।’

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড পত্রিকার রিপোর্টার আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আসামির ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের আইনজীবীরা চড়াও হন। একজনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। ভিডিও ধারণ করায় বিচারকের কাছে জোর করে তারা আমাদের নিতে চেয়েছেন। আমরা যেতে না চাওয়ায় তারা খুব খারাপ আচরণ করতে থাকেন। এ সময় আরেক আদালতের বিচারক আমাদের এজলাসে ডাকেন। এরপর কাঠগড়ায় যেতে বলেন। বিচারক কোনও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেন। কোনও অপরাধ না করেই নিঃশর্তে ক্ষমা চাইতে হয়েছে। বিষয়টি দুঃখজনক।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইনজীবী আক্তারুজ্জামান ডালিম বলেন, ‘একটা ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। পরে বিচারক ডেকে সমাধান করে দিয়েছেন।’

আইনজীবী রেজাউল হক রিয়াজ বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।’

এ বিষয়ে ঢাকার কোর্ট রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি লিটন মাহমুদ বলেন, ‘সাংবাদিকদের ওপর হামলার চেষ্টা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ দিন সাংবাদিকরা ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুল্লা পিয়াসের আদালতের বাইরে সংবাদ সংগ্রহ করতে যান। কোর্টে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় অথবা ব্যাঘাত সৃষ্টি করে এমন কোনও অপেশাদার আচরণ করেননি তারা। সাংবাদিকরা শুধুমাত্র তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে জামাতের আইনজীবীদের দ্বারা হেনস্তার স্বীকার হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ সময় ওই সব আইনজীবীদের হট্টগোলে আদালতে পরিবেশ নষ্ট হয়। যার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। এসব বিবেচনায় না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোর্টের বিচারক অতিউৎসাহী হয়ে হাসিবুল্লা পিয়াস উল্টো তিন সাংবাদিককে ডেকে নিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়েছেন। একজন বিচারকের কাছে এমন আচরণ কাম্য নয়। যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমি ওই বিচারকের অপসারণসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই। এ বিষয়ে আমরা প্রধান বিচারপতির কাছে লিখিত অভিযোগ জানাব।’

তবে, এই ঘটনায় সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠন নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংবাদিকদের কাজে বাঁধা দেওয়া হয়েছে।

সিনিয়র সাংবাদিক ফয়েজ বলেন, কোন বিচারকই সাংবাদিকদের কাজে বাঁধা দিতে পারেন না। এমনকি প্রধান বিচার পতিও না। বরং সেই আইনজীবীগণ এবং বিচারক সাংবাদিকদের কাজে বাঁধা দিয়ে অপরাধ করেছেন।

আরও সংবাদ পড়ুন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সদস্যপদ স্থগিত বাসস এমডি মাহবুব মোর্শেদের

আরও সংবাদ পড়ুন।

সচিবালয়ে সাংবাদিকরাও ঢুকতে পারবেন না

আরও সংবাদ পড়ুন।

স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান সম্পাদক পরিষদের

আরও সংবাদ পড়ুন।

বাসস এমডি মাহবুব মোর্শেদসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আরও সংবাদ পড়ুন।

সভাপতি আলাউদ্দিন আরিফ সাধারণ সম্পাদক তাবারুল র‌্যাকের (RAC)

আরও সংবাদ পড়ুন।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা বিরোধী কালাকানুন বাতিলের দাবি সাংবাদিক নেতৃবৃন্দের

আরও সংবাদ পড়ুন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সভাপতি আবু সালেহ ও সম্পাদক সোহেল

আরও সংবাদ পড়ুন।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ ও সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া

আরও সংবাদ পড়ুন।

আজ দুদকের সামনে গণমাধ্যম কর্মিদের বিক্ষোভ।

আরও সংবাদ পড়ুন।

র‌্যাকের সভাপতি ফয়েজ, সম্পাদক জেমসন নির্বাচিত হয়েছেন

আরও সংবাদ পড়ুন।

ডিআরইউ’র সভাপতি মুরসালিন নোমানী সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল

আরও সংবাদ পড়ুন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কিছুই পরিবর্তন হয়নি – টিআইবি

আরও সংবাদ পড়ুন।

সাইবার আইন অনুমোদনে বিএফইউজের উদ্বেগ

আরও সংবাদ পড়ুন।

যে সকল সাংবাদিকদের বহিষ্কারের দাবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র অন্দোলনের

আরও সংবাদ পড়ুন।

এসিআরএফ’র আত্মপ্রকাশ – আহ্বায়ক তাওহীদ সৌরভ ও সদস্য সচিব রিশাদ হুদা

আরও সংবাদ পড়ুন।

প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড বাতিল ২৯ সাংবাদিকের

আরও সংবাদ পড়ুন।

২০ সাংবাদিকের প্রেস অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল

আরও সংবাদ পড়ুন।

ব্যাংক হিসাব তলব ২৬ সাংবাদিকসহ ২৯ জনের

আরও সংবাদ পড়ুন।

বাংলাদেশ মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ১৬৫তম; দুই ধাপ পিছিয়ে গতবারের চেয়ে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top