ভোলা-বরিশাল সেতুর দাবিতে রাজধানীতে সমাবেশ

Picsart_25-11-21_20-43-05-231.png
admin

বিশেষ প্রতিবেদদকঃ ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে রাজধানীতে সমাবেশ করেছে ভোলার সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা। আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর ২০২৫) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে ভোলায় মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষম বণ্টনের দাবি তুলে ধরা হয়।

এসব দাবি আদায়ে একদল তরুণ তেঁতুলিয়া-কালাবদর ও পদ্মা নদী সাঁতরে এবং পায়ে হেঁটে ঢাকায় ওই সমাবেশে যোগ দেন।

বক্তারা বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতু কোন করুণার দাবি নয়। এটি ভোলার ২০ লাখ মানুষের অধিকার। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ভোলা-বরিশাল সেতু তৈরির কাজ শুরু করতে হবে।

সমাবেশে আসা এক নারী বলেন, ভোলা চারদিক থেকে নদীবেষ্টিত। সেতু না থাকায় বিশেষ করে নারীদের জীবন ঝুঁকিতে থাকে। প্রেগন্যান্সিসহ নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত হলেও রাতে এবং ঝড়-বাদলের দিনে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল-ঢাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়া যায় না। এতে নারীরা বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করে থাকে। এজন্য সেতু এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ভোলাবাসীর যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করতে হবে।

ঢাকাস্থ ভোলা সাংবাদিক ফোরাম (ডিবিএসএফ) এর সভাপতি আহসান কামরুল বলেন, ভোলায় কয়েকদিন আগে ৩ উপদেষ্টা গিয়েছেন। নদীতে ৭ নম্বর সিগন্যাল থাকলে তারা যেতেন? যেতেন না। তাদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত কর্মকর্তারা তাদেরকে যেতে দিতেন না। কিন্তু ভোলার মানুষকে প্রতিনিয়ত এসব গুরুতর সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়। জটিল রোগ সিগন্যাল বোঝে না। সেসময় বহু মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যান। সেতু থাকলে এই সমস্যার সমাধান হবে। সুতরাং ভোলা-বরিশাল সেতু, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং গ্যাসের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাধীনতা সুরক্ষা মঞ্চ’র সদস্য সচিব শামস উদ্দিন বলেন, কিছুদিন আগে ৩ জন উপদেষ্টা ভোলায় গিয়েছেন। তাদের কথাবার্তায় ভোলার সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ। উল্টাপাল্টা কথাবার্তা না বলে জুলাইয়ের সর্বোচ্চ শহীদের জেলার মানুষদের দাবি-দাওয়া শুনতে হবে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ভোলা-বরিশাল সেতু কোন বিলাসী দাবি নয়, এটি দ্বীপজেলার মানুষের ন্যায্য ও প্রয়োজনীয় দাবি।

রাসেল মাহমুদ নামের এক আন্দোলনকারী বলেন, ভোলা প্রাকৃতি গ্যাসসহ নানা সম্পদের ভাণ্ডার দ্বীপজেলা। অথচ ভোলাকে সবাই যুগ যুগ ধরে শোষণ করে আসছে। কিন্তু ভোলাবাসীর যৌক্তিক দাবিগুলো কেউ আমলে নিচ্ছে না। ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণসহ ভোলাবাসীর দাবিগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে পূরণ করতে হবে। না হলে ভোলার মানুষ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলবে।

জাতীয় ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ভোলা-বরিশাল সেতু নিয়ে আমরা আর কোন টালবাহানা মানব না। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করতে হবে। একইসাথে ভোলার মানুষের জন্য মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠাসহ তাদের দাবিগুলো পূরণ করতে হবে।

জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ শেষে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যমুনার সামনে বিক্ষোভ করেন ভোলার সর্বস্তরের ছাত্র-জনতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top