ভোলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার ফজলে গোফরান এর অনিয়ম ও দুর্নীতি

wnews360.com_20250713_155310_0000.png
admin

ভোলা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার ফজলে গোফরান অনিয়ম ও দুর্নীতি করেও বহাল তবিয়তে আছেন।

সাগর চৌধুরীঃ দ্বীপজেলা ভোলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার ফজলে গোফরান অনিয়ম ও দুর্নীতি’র মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ৮০ লক্ষ টাকার সরকারি প্রকল্পে মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষনের আইসিটি (ict) অনিয়ম ও দূর্নীতি করেছেন। তিনিও শিক্ষক ছিলেন এবং শিক্ষক হয়ে তিনিও শিক্ষকদের রক্ত চুষে খাচ্ছেন। যদিও প্রবাদ আছে কাক কখনো কাকের মাংস খায় না। তিনি আগে যে সব প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে আসছেন, সেখানেও তার বিরুদ্ধে সরকারের অর্থ আত্মসাৎ সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই, কম্পিউটার নেইঃ সরকারি প্রকল্পের টাকা বা প্রশিক্ষণের টাকা যেখানে সেখানে বিলিয়ে দিতে হবে এমনটি নয়। যে সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ নেই, কম্পিউটার নেই, সেই সকল স্কুলের শিক্ষকদের আইসিটি প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। তাহলে প্রশিক্ষণ লব্ধ জ্ঞান তিনি কোথায় এবং কিভাবে ব্যবহার করবেন? এমনকি এখান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক কিভাবে কম্পিউটার বন্ধ করতে হয় এবং কিভাবে অন করতে হয় তাই জানে না? তাহলে তাদের কি প্রশিক্ষণ দেয়া হলো? সরকারের অর্থ এভাবে অপচয় করার কি দরকার ছিল? প্রশিক্ষণে যা অধিকাংশই জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার ইচ্ছায় হয়েছে।

শিক্ষকদের খাবারে অনিয়ম ও দূর্নীতিঃ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষনের আইসিটি (ict) খাবারের জন্য সরকারের বরাদ্দ ছিল কিন্তু সেই বরাদ্দ থেকে নিম্নমানের খাবার ক্রয় করার ফলে সিংহভাগ শিক্ষক খেতে পাননি, অভুক্ত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। জেলা শিক্ষক কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে কম দামে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। যা নীতি ও নৈতিকতা থেকে সরে এসে পকেট ভারি করেছেন কর্মকর্তা। খাবারের মান এতই খারাপ ছিল যে, শিক্ষক প্রশিক্ষণ্থীরা নিজেরা বনরুটি ও কলা কিনে খেয়েছেন।

ভোলা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে খাবারের বিষয়ে জানানো হলেও তিনি কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বরং শিক্ষকদের তিনি ধমক দিয়েছেন এবং চুপ থাকতে বলেছেন।

মিথ্যা বিল ভাউচারঃ ভোলার মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার ফজলে গোফরান মিথ্যা বিল ভাউচার তৈরি করে সরকারের লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন করছেন। ভোলা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে খোঁজ নিলে জানা যায়, নির্দিষ্ট পরিমাণের ব্যয় হলেও তিনি অতিরিক্ত ব্যয় দেখিয়ে সরকারের অর্থ আত্মসাৎ করেন। যা সরকারি চাকরিবিধানে দণ্ডনীয় অপরাধ, সরকারের বিধানে গুরু দন্ড হিসেবে অভিহিত।

টিউশনি এবং অতিরিক্ত ক্লাসের নামে অর্থ আদায়ঃ সরকারি বিধি ও বিধানে বলা হয়েছে, প্রাইভেট বা অতিরিক্ত পড়ানোর ক্লাস নামে অর্থ নেয়া দণ্ডনীয় অপরাধ কিন্তু ভোলার অধিকাংশ স্কুলে বাড়তি ক্লাস বা টিউশনি করে শিক্ষকরা। তারা স্টুডেন্টদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন, সেই অর্থের নির্দিষ্ট একটি পরিমাণ জেলার শিক্ষা কর্মকর্তার পকেটে দিতে হয়। অন্যথায় তিনি বেতন বন্ধ সহ প্রশাসনিক বিভিন্ন ক্ষমতা প্রয়োগ করে শিক্ষকদের নাজেহাল করেন।

সরকারি কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে দুর্ব্যবহারঃ জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার ফজলে গোফরান ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরন করেন। কোন বিষয়ে তথ্য চাইলে তিনি দিনের পর দিন সময় ক্ষেপন করেন। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভুল তথ্য দিয়ে বিভান্তি ছাড়ান। গণমাধ্যম কর্মীরা সংবাদ সংগ্রহে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে গেলে তাদের সঠিক তথ্য না দিয়ে আজে বাজে মক্তব্য করেন। তিনি নিজে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন কিন্তু তথ্য চাইলে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেন। নানা রকম হুমকি দামকি দেন নিউজ না প্রকাশ করার জন্য। এমনকি শিক্ষকদের সাথেও খারাপ আচরন করার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

শিক্ষকদের বদলী,টাইমস্কেল,বিল ভাউচারে হয়রানি করেনঃ ভোলা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার ফজলে গোফরান মাত্র দশমাস ভোলায় দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকদের নানা রকম বিল ভাইচার করতে গেলে খন্দকার ফজলে গোফরান টাকা ছাড়া কোন কাজ করেন না। শিক্ষকগণ তার সিগনেচার নিতে গেলে ঘুষের টাকা কম হলে না রকম ভনিতা করেন। তার চাহিদামত অর্থ দিলে হাসিমুখে সিগনেচার করে দেন।

জেলা গবেষণা কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকী

ভোলা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনিমেয় দুর্নীতির সহচর হলেন, জেলা গবেষণা কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকী।

প্রতিটি অফিসে অফিসারের অনিয়ম ও দুর্নীতির একজন সহকারীও থাকেন। ভোলা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনিমেয় দুর্নীতির সহচর হলেন, জেলা গবেষণা কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকী। রাজস্ব কর্মকর্তা না হলেও তিনি একটি প্রকল্পের অধীনে মাধ্যমিক শিক্ষা গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু শিক্ষকদের পকেট কিভাবে কাটতে হয়? সরকারের অর্থ কিভাবে লোপাট করতে হয়? বছরের পর বছর কিভাবে নিজের দায়িত্ব ফাঁকি দিতে হয়? গবেষণা কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুরে আলম সিদ্দিকী’র কাছ থেকে শেখা যায়।

দীর্ঘদিন ভোলা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে চাকরি করার সুবাদে তিনি সাতটি উপজেলার অধিকাংশ সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের মধ্যে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই নিয়ন্ত্রণ করেন, ভোলা জেলার মাধ্যমিকের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের।

ভোলা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার ফজলে গোফরানের অনিয়ম ও দুর্নীতি’র বিষয়ে জানতে তার উর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অপরাধ করলে নিশ্চয়ই তার শান্তি হবে। সরকারের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ তো গুরুতর অপরাধ। অবশ্যই ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। তবে, তার উর্ধতন একজন জানান, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আগেও ছিল। কিভাবে যে সব ম্যানেজ করছে..!

ভোলা জেলার মাধ্যমিক সহকারী শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকদের দাবী এই ঘুষখোর অফিসারের মুখ তারা দেখতে চায় না। নিজে সততার মুখোশ পড়ে থাকলেও তার কুকর্ম থেমে থাকে না। সরকারের অর্থ আত্মসাৎ, শিক্ষকদের হয়রানী,দায়িত্বে অবহেলা করেও তিনি কি করে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদে বহাল আছেন?

আরও সংবাদ পড়ুন।

ভোলার চরফ্যাশনে দু’টি ও তজুমুদ্দিনে একটি স্কুলের কেউ পাশ করে নি

আরও সংবাদ পড়ুন।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ পাসের হার ৬৮.৪৫

আরও সংবাদ পড়ুন।

এনসিটিবি’তে সরকারের অপচয় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা

আরও সংবাদ পড়ুন।

নতুন চেয়ারম্যান চার শিক্ষা বোর্ডে

আরও সংবাদ পড়ুন।

কারিগরি বোর্ড জাল সনদের কারখানা! জড়িতদের শাস্তি কি হবে?

আরও সংবাদ পড়ুন।

২০২ জন শিক্ষকের জাল সনদে চাকরি; ফেরত দিবে বেতন ভাতা, হবে ফৌজদারি মামলা

আরও সংবাদ পড়ুন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের শুদ্ধি অভিযান, আতঙ্কে শতাধিক কর্মকর্তা

আরও সংবাদ পড়ুন।

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে ফিরছে বার্ষিক পরীক্ষা

আরও সংবাদ পড়ুন।

শিক্ষক বদলির নীতিমালা প্রকাশ – সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের

আরও সংবাদ পড়ুন।

ঘুষ দুর্নীতির ২০ সিন্ডিকেট শিক্ষা প্রশাসনে

আরও সংবাদ পড়ুন।

এনসিটিবি’তে সরকারের অপচয় ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা

আরও সংবাদ পড়ুন।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা পরিবারের স্মারকলিপি পেশ ও মানববন্ধন

আরও সংবাদ পড়ুন।

চাকুরী হারালেন ১৫৪ শিক্ষক; ফেরত দিতে হবে বেতন ভাতা

আরও সংবাদ পড়ুন।

হিট অ্যালার্ট জারি – শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ল ৭ দিন

আরও সংবাদ পড়ুন।

মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে – এক ব্যক্তি পরপর দু’বারের বেশি সভাপতি হতে পারবেন না

আরও সংবাদ পড়ুন।

কেন রোজায় খোলা রাখা হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ? শিক্ষা মন্ত্রণালয় কি বলছে?

আরও সংবাদ পড়ুন।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল খোলা রাখার সিদ্ধান্ত – আপিল বিভাগ

আরও সংবাদ পড়ুন।

আজ ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ – কিভাবে করবেন আবেদন?

আরও সংবাদ পড়ুন।

নতুন চেয়ারম্যান চার শিক্ষা বোর্ডে

আরও সংবাদ পড়ুন।

কোচিং শিক্ষকদের নিয়ে কঠোর মাউশি; কোচিং করায় শিক্ষকদের বিষয়ে প্রশিক্ষনে নিষেধাজ্ঞা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top