সচিবালয়ে ‘কালাকানুন’ প্রত্যাহারের দাবি, মিছিল নিয়ে আসছেন কর্মচারীরা

Screenshot_20250526_122547_Picsart.jpg
admin

সচিবালয়ে ‘কালাকানুন’ প্রত্যাহারের দাবি, মিছিল নিয়ে আসছেন কর্মচারীরা

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’–কে ‘নিবর্তনমূলক ও কালাকানুন’ আখ্যায়িত করে টানা তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা।

আজ সোমবার (২৬ মে ২০২৫) সকাল থেকে সচিবালয়ের বাদামতলায় এসে তারা জড়ো সরকার চাকুরী জিবিরা।

পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সচিবালয়ের ভেতরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে কর্মচারীরা মিছিল নিয়ে বাদামতলায় সমবেত হন। বিক্ষোভকারীরা অধ্যাদেশটি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান।

বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের ব্যানারে চলমান এই আন্দোলনে বক্তারা বলেন, ‘নতুন এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে চার দশক আগের কিছু বিশেষ বিধান পুনঃস্থাপন করা হয়েছে, যেগুলো সরকারি চাকরিজীবীদের অধিকার হরণ করে।’

তারা আরও বলেন, ‘অধ্যাদেশটির কিছু ধারা সংবিধানবিরোধী। এটি আমাদের মৌলিক অধিকার খর্ব করে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ অধ্যাদেশ প্রত্যাহার না হলে কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর গতকাল রোববার তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মো. বাদিউল কবীর অধ্যাদেশটিকে কালাকানুন আখ্যায়িত করে বলেন, এটি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

অধ্যাদেশে যা আছে

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের চারটি বিষয়কে অপরাধের আওতাভুক্ত করা হয়। সেগুলো হলো সরকারি কর্মচারী যদি এমন কোনো কাজে লিপ্ত হন, যা অনানুগত্যের শামিল বা যা অন্য যেকোনো সরকারি কর্মচারীর মধ্যে অনানুগত্য সৃষ্টি করে বা শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধার সৃষ্টি করে; অন্যান্য কর্মচারীর সঙ্গে সমবেতভাবে বা এককভাবে ছুটি ছাড়া বা কোনো যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া নিজ কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকেন বা বিরত থাকেন বা কর্তব্য সম্পাদনে ব্যর্থ হন; অন্য যেকোনো কর্মচারীকে তার কর্ম থেকে অনুপস্থিত থাকতে বা বিরত থাকতে বা তার কর্তব্য পালন না করার জন্য উসকানি দেন বা প্ররোচিত করেন এবং যেকোনো সরকারি কর্মচারীকে তার কর্মে উপস্থিত হতে বা কর্তব্য সম্পাদনে বাধাগ্রস্ত করেন, তাহলে তিনি অসদাচরণের দায়ে দণ্ডিত হবেন। অধ্যাদেশে এসব অপরাধের শাস্তি হিসেবে বলা হয়েছে, দোষী কর্মচারীকে নিম্নপদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে নামিয়ে দেওয়া, চাকরি হতে অপসারণ বা চাকরি থেকে বরখাস্ত করার দণ্ড দেওয়া যাবে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, কোনো কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। আর অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হলে কেন দণ্ড আরোপ করা হবে না, সে বিষয়ে আরও সাত কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। তার ভিত্তিতে দণ্ড আরোপ করা যাবে। এভাবে দণ্ড আরোপ করা হলে দোষী কর্মচারী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতির দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে না। আদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদন করা যাবে।

বর্তমানে দেশে ১৫ লাখের মতো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন। আইন অনুযায়ী সবাই কর্মচারী।

আরও সংবাদ পড়ুন।

সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫  জারি

আরও সংবাদ পড়ুন।

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেফতারে অনুমতি লাগবে না – হাইকোর্ট

আরও সংবাদ পড়ুন।

সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ৮ ডিসির নিয়োগ বাতিল; ৪ জেলার ডিসি রদবদল

আরও সংবাদ পড়ুন।

জনপ্রশাসনে শুরু হচ্ছে শুদ্ধি অভিযান; বঞ্চিতরা মন্ত্রণালয়ে

আরও সংবাদ পড়ুন।

চুক্তি থেকে কবে মুক্তি মিলবে পাঞ্জেরী? ক্ষোভ, দুঃখ ও কষ্টে চাপা পড়েছে জনপ্রশাসন!

আরও সংবাদ পড়ুন।

জনপ্রশাসনের তিন পদে পদোন্নতি; তিন শতাধিক কর্মকর্তার তথ্য যাচাই বাছাই চলছে

আরও সংবাদ পড়ুন।

গেজেট ছাড়া ভারপ্রাপ্ত সচিব লেখা যাবে না

আরও সংবাদ পড়ুন।

জনপ্রশাসনে উপেক্ষিত অর্গানোগ্রাম;গলার কাটা অতিরিক্ত প্রমোশন

আরও সংবাদ পড়ুন।

সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গ্রেফতার

আরও সংবাদ পড়ুন।

২৫ জেলায় নতুন ডিসি 

আরও সংবাদ পড়ুন।

কক্সবাজারের সাবেক ডিসি ও সাবেক জেলা জজ সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

আরও সংবাদ পড়ুন।

ইউএনও এবং এসি ল্যান্ড’রা কাউকেই আমলে নিচ্ছেন না; মাঠ প্রশাসনে বিতর্কিত সরকার

আরও সংবাদ পড়ুন।

সাবেক তিন বিচারপতিসহ ৫ বিচারক দুদকের কাঠগড়ায়

আরও সংবাদ পড়ুন।

সংবাদের সোর্স প্রকাশ করতে বাধ্য নয় সাংবাদিকরা – হাইকোর্ট

আরও সংবাদ পড়ুন।

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্পদের হিসাব প্রতি বছর দাখিলের নির্দেশ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top