মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে প্রতারণার দায়ে সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তার কারাদণ্ড
আদালত প্রতিবেদকঃ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হলেও প্রতারণার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কোটায় চাকরি নেওয়ার অভিযোগে শুল্ক, আবগারী ও ভ্যাট কমিশনারেট ঢাকার (পশ্চিম) সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানের ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৭ এর বিচারক শহিদুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
জানা যায়, পেনাল কোডের ৪২০ ও ৪৬৮ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মনিরুজ্জামানকে ৭ বছর করে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও বিশ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে আদালত। এছাড়াও পেনাল কোডের ৪৭১ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দুই বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
রায়ে বলা করা হয়, আসামি মনিরুজ্জামান মুক্তিযোদ্ধার সন্তান না হয়েও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদের ঠিকানা ব্যবহার করেন। প্রতারণামূলকভাবে জাল-জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণে মুক্তিযোদ্ধা সন্তান হিসেবে মিথ্যা পরিচয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সরকার প্রদত্ত স্বীকৃতি, কোটা ও সুবিধা ভোগ করেছেন। যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগকে অপব্যবহার তথা অপমান করেছেন তিনি।
৪২০, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে পাওয়া দণ্ড একসঙ্গে চলবে বলে তাকে মোট ৭ বছর কারাভোগ করতে হবে। তবে রায় ঘোষণার সময় অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে আদালত।
উল্লেখ্য, মনিরুজ্জামান ২০১৪ সালের ১১ মে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে যোগদান করেন। ২০১৪ সালের ১৩ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে এ সংক্রান্ত অভিযোগ এলে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। অনুসন্ধান শেষে জালিয়াতির অভিযোগে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
২০১৬ সালে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে এ মামলায় ২১ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন।


























