ডানদিকে: মোঃ মাহে আলম, টাইপিস্ট, নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগ,বিআইডব্লিউটিএ, ঢাকা। মাঝখানে: মোঃ আব্দুস ছালাম, অতিরিক্ত পরিচালক, নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ,ঢাকা। বামদিকে: শরীফ আহাম্মদ মাহফুজ উল আলম মোল্লা, যুগ্ম-পরিচালক, নৌ-সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগ, বিআইডব্লিউটিএ, খুলনা (যিনি তদন্তের আওতাভুক্ত হতে পারেন)।
অপরাধ প্রতিবেদকঃ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অন্দরে গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর দুর্নীতির সাম্রাজ্য। এই সাম্রাজ্যের নেপথ্যে রয়েছেন সংস্থাটির অতিরিক্ত পরিচালক (নৌ-পথ) মো. আব্দুস সালাম এবং তার ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত টাইপিস্ট মো. মাহে আলম। ব্রিজ ক্লিয়ারেন্স বাণিজ্য, ভুয়া টিএ/ডিএ বিল এবং ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে তারা হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট এই দুই কর্মকর্তার দাপটে সংস্থাটির সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আজ কোণঠাসা।
ব্রিজ ক্লিয়ারেন্সের নামে ‘ডিজিটাল হয়রানিঃ তদন্তে জানা গেছে, এলজিইডি, সওজ, বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং বিবিএ-র মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যখন কোনো ব্রিজের উচ্চতা ও প্রশস্ততার অনাপত্তিপত্র নিতে আসে, তখনই শুরু হয় সালাম-আলম সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য।
তাদের অনৈতিক চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ফাইল দিনের পর দিন ফেলে রাখা হয় অথবা অহেতুক ‘রিভিউ’-এর নামে ডিজিটাল পদ্ধতিতে হয়রানি করা হয়। এমনকি নদীর ভুল ক্লাসিফিকেশন দেখিয়ে ব্রিজের উচ্চতা কমিয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়েও বড় অংকের ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
আকাশপথে যাতায়াত ও রাজকীয় বিলাসিতাঃ একজন সামান্য টাইপিস্ট হয়েও মাহে আলমের জীবনযাপন রূপকথার গল্পকেও হার মানায়। অভিযোগ অনুযায়ী, সাইট পরিদর্শনের নামে তারা আবেদনকারীদের খরচে আকাশপথে ভ্রমণ করেন, থাকেন ভিআইপি হোটেলে এবং খান দামী খাবার। অথচ দপ্তর থেকে আবার ভুয়া টিএ/ডিএ বিল উত্তোলন করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেন। এধরনের সুবিধা গ্ৰহন চাকুরীবিধি পরিপন্থি, অসদাচরণ এবং শাস্তি যোগ্য অপরাধের ঢাকার অভিজাত বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, কোটি টাকার জমি এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনই তাদের অবৈধ সম্পদের পাহাড়ের সাক্ষ্য দেয়।
জানা গেছে, মাহে আলমের বর্তমান বেতন মাত্র ৩৫ হাজার টাকা হলেও তিনি ঢাকায় কয়েক কোটি টাকার ফ্ল্যাটে থাকেন এবং সন্তানদের নামী-দামী স্কুলে পড়ান।
সিন্ডিকেটের মরণকামড়:ধরাছোঁয়ার বাইরে কুশীলবরাঃ বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বিআইডব্লিউটিএ-র অনেক রাঘববোয়াল ওএসডি বা শাস্তিমূলক বদলির শিকার হলেও, রহস্যজনক ভাবে বহাল তবিয়তে আছেন আব্দুস সালাম ও মাহে আলম।
অভিযোগ উঠেছে, ঊর্ধ্বতন মহলে শক্ত খুঁটির জোরে এবং অবৈধ অর্থের ভাগবাটোয়ারা নিশ্চিত করে তারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমনকি টাইপিস্ট মাহে আলমের দাপট এতই যে, কোনো কারিগরি জ্ঞান ছাড়াই তিনি নীতিনির্ধারণী সভায় উপস্থিত থাকেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে প্রভাব বিস্তার করেন।
এই দুর্নীতির বিষয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিবেদককে জানান, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে, সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের মনে একটাই প্রশ্ন, এসব অকাট্য দালিলিক প্রমাণ থাকার পরও কি তদন্তের নামে কালক্ষেপণ হবে, নাকি দুর্নীতির মূলোৎপাটন করে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা হবে?
ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের অবৈধ সম্পদের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিএ এর অতিরিক্ত পরিচালক আব্দুস সালাম এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি প্রতিবেদককে বলেন, “আমার সাথে কথা বলতে হলে বিআইডব্লিউটিএ এর জনসংযোগ কর্মকর্তার মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট করে আসতে হবে”।
অন্যদিকে টাইপিস্ট মাহে আলমকে একাধিকবার কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক আশিকুজ্জামানের অনিয়ম-দুর্নীতি; অনুসন্ধানে দুদক
আরও সংবাদ পড়ুন।
ঘুষ নিয়ে ধরা খেয়েও কয়েক দফা পদোন্নতি; বিআইডব্লিউটিএ এর ঘুসের নিয়ন্ত্রণ করে কে?
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
পর্যটন সার্ভিস হিসেবে শতবর্ষী প্যাডেল স্টিমার পি এস মাহসুদ–এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
ঘুষ নিয়ে ধরা খেয়েও কয়েক দফা পদোন্নতি; বিআইডব্লিউটিএ এর ঘুসের নিয়ন্ত্রণ করে কে?
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
ঘুষ নিয়ে ধরা খেয়েও কয়েক দফা পদোন্নতি; বিআইডব্লিউটিএ এর ঘুসের নিয়ন্ত্রণ করে কে?



























