ভোলা জেলার জেলা জজ মাহমুদুর রহমান । ফাইল ছবি।
সাগর চৌধুরীঃ জেলা জজ জেলায় সবচেয়ে সম্মানিত সরকারি কর্মকর্তা। তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য অসিম। জেলা জজ জেলায় সবচেয়ে বেশি সুযোগ সুবিধা পেয়ে থাকেন। জেলার সবচেয়ে বড় চেয়ারটি তার। শুধু বিচার বিভাগ নয়, এছাড়াও জেলা জজ জেলার সকল বিষয়ে নজর রাখতে হয়। বাংলাদেশ সরকারের আইন মন্ত্রনালয়ের অধিনে এই পদে অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ, মার্জিত, শিক্ষিত কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
দ্বীপ জেলা ভোলায় বিচার বিভাগের প্রধান এ,এইচ,এম মাহমদুর রহমানের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
আওয়ামী লীগের গুড বুকে নাম নাম লেখানো ভোলা জেলায় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদুর রহমান জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে (১লা জানুয়ারি ২০২৩) ভোলায় যোগদান করেন।

ভোলা জেলার ছাত্রজনতা ভোলা জেলার জেলা জজ এ,এইচ,এম মাহমদুর রহমান ও বিচারকের সহ আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতি বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে।
ভোলা কোর্টের সামনে ছাত্র জনতার মিছিল।
এ,এইচ,এম মাহমদুর রহমানের বিরুদ্ধে ছাত্রজনতার আন্দোলনঃ (৫ আগষ্ট২০২৪) বিগত সরকারের পতনের পর ভোলা জেলায় আইনজীবী সমিতির সামনের রাস্তায়,ভোলা চীফ জুডিশিয়াল আদালতের সামনের রাস্তায় এবং ভোলা জেলা জজ আদালতের সামনে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্র জনতা।
ভোলা জেলা জজও বিচারকদের এবং আইনজীবীদের অনিয়ম ও দূর্নীতি’র বিরুদ্ধে ছিলো, ছাত্র জনতার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।
ভোলা জেলার ইতিহাসে বিরল ঘটনা হয়ে থাকবে জজ কোর্টের সামনে বিচারক ও আইনজীবিদের বিরুদ্ধে স্থানীয় ছাত্র জনতার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ। ইতোপূর্বে এমন ঘটে নি।
ছাত্রজনতার সাথেই বাজে আচরণ করেছেন,অকথ্য ভাষায় কথা বলেছেন,অভিযোগ করেছিলেন ছাত্র জনতা।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে খারাপ আচরন করা,পুলিশের কর্মকর্তাদের মুখের উপর মামলার নথি ছুঁড়ে মারা, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা একজন বিচারকের কাজ না। জনগণ একজন জেলা জজ এর কাছে মার্জিত
ব্যবহার আশা করে।
ছাত্রজনতার সাথে খারাপ আচরন করার কোন আইনি ভিত্তি নেই জেলা জজের। এমনকি রাষ্ট্রের কোন নাগরিকের সাথেই এ,এইচ,এম মাহমদুর রহমান বাজে ভাষায় কথা বলা, অপমান করা,গালিগালাজ করা, উচ্চস্বরে শব্দ করে কথা বলা, একজন বিচারক এসব আচরন করতে পারেন না রাষ্ট্রের নাগরিকদের সাথে।
সরকারি চাকরি বিধি ও বিধানে এমন আচরন অপরাধ।
জেলা জজ হিসাবে এই বিষয়গুলো জানার কথা তার। কারণ বিচারক প্রশিক্ষনগুলো রাষ্ট্রের টাকায় চলে, ওখানে কি সঠিক শিক্ষা দেয় না? তাহলে একজন শিক্ষিত মানুষ হয়ে জেলা জজের আচরণ এমন কেন? ছাত্রজনতা এ,এইচ,এম মাহমদুর রহমানের বিরুদ্ধে করেছে একাধিক অভিযোগ।

ভোলা জেলার জেলা জজ
এ,এইচ,এম মাহমদুর রহমানের নির্দেশে ভাংচুর করে।
গণপূর্ত অধিদফতরের থানায় জিডিঃ ভোলা জেলার জেলা প্রশাসকের বাসভবনের দেয়াল ভাংচুর করার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে ভোলা সদর মডেল থানায় একটি জিডি করেছে ভোলা গণপূর্ত অধিদফতর।
জেলায় বিভিন্ন দফতরের সরকারি কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের সাথেও খারাপ আচরন করেছেন।
সরকারের জানমাল নিরাপত্তার জন্য জেলার সরকারী কর্মকর্তারা থানায় জিডি করেছেন। সেই সব কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনের হুমকি দিয়েছেন। তাদের দেখে নিবেন।

ভোলা জেলার জেলা জজ
এ,এইচ,এম মাহমদুর রহমানের নির্দেশে ভাংচুর করে।
অবৈধভাবে অবৈধ কাজে (জেলা প্রশাসকের বাসভবনের পেছনের দেয়াল ভাংচুর) নির্দেশ দেওয়ার জন্য তিনি নিরপেক্ষতা ভঙ্গ করেছেন। সরকারি চাকরি বিধি ও বিধান অনুযায়ী জেলা জজ ( ভাংচুরের ) নির্দেশ দিতে পারেন না। সরকারের চাকরি বিধি ও বিধান অনুযায়ী সরকারি স্থাপনা বিনা অনুমতিতে ভাংচুর করা, নির্দেশ দেওয়া। যা গুরুদণ্ড।
এ,এইচ,এম মাহমদুর রহমান ভোলায় যোগদান করেই জামিন বানিজ্যঃ বিএনপি আর আওয়ামী লীগ বা অন্য কোন দল বলতে নেই। জামিন করাতে হলেই টাকা। অনিয়ম ও দূর্নীতি’র সাথে জড়িত আইনজীবীদের সাথে আঁতাত করে আসামি জামিন পায়। সরাসরি না নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে গ্রহন করেন। মরে গেলেও কেউ সাক্ষি দেয় না। কিন্তু বিনিময় অহরহ, প্রতিদিন!
আওয়ামী লীগের সময়ে বিএনপি’র থেকে নিয়েছে এখন আওয়ামী লীগের কাছ থেকে নিচ্ছে, বিভিন্ন মাধ্যমে। আওয়ামী লীগের নেতারা কৌশলে আইনের ফাঁক দিয়ে জামিন নিয়ে যায়। সেই আসামীরা দেশ ছেড়ে চলে যায়। ভোলা জেলার জজ কোর্টের নির্দিষ্ট শাখাকে জানানো হলেও আইনি পদক্ষেপ গ্রহন করে নি কোর্টের নির্দিষ্ট শাখা। আসামীদের ওকালত নামায় সহযোগিতা করেন, ভোলা জেলার নামকরা আইনজীবীগণ। টাকা নিয়ে পকেট ভারী করেছেন সবাই।

ভোলা জেলার জেলা জজ মাহমুদুর রহমান অনিয়ম ও দূর্নীতি সাথে জড়ান।
সরকারি সম্পত্তি ও সম্পদ রক্ষা করার দায়িত্ব জেলা ও দায়রা জজের উপর মাহমুদুর রহমানের সরকারের সম্পত্তি ও সম্পদ রক্ষা করেন নি বরং সেই সকল মামলা থেকে মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে সরকারের সম্পদ ও সম্পত্তি নাম জারী করার জন্য আদেশ দিয়েছেন।
একজন অভিজ্ঞ, বিচক্ষণ, মার্জিত, শিক্ষিত কর্মকর্তা হয়ে জজ হিসেবে মাহমুদুর রহমান এর দায় এড়িয়ে যেতে পারেন না। যা করেছেন সরকারের বিধিও বিধানে দন্ডনীয় অপরাধ।
ভোলা জেলা জজ মাহমুদুর রহমানের জন্য আইন এক রকম অন্য মানুষের জন্য আইন এক রকম এটা তো না! তাহলে জেলা জজ হিসেবে তার কোর্টের প্রত্যেক বিচারকের সাথে সবসময় যোগাযোগ থাকে। বিভিন্ন বিষয়ে তাকে অবগত করার জন্য দেখা করতে গেলে তিনি সেই সকল ব্যাক্তিদের সাথে বাজে আচরন করেছেন, বাজে ভাষা (অলেখ্য) ব্যবহার করেছেন, কিন্তু সেই সব বিচারকদের সায় দিয়ে কাজ শেষ বা অসমাপ্ত রেখেছেন।
বিচারালয় এবং বিচারকের প্রতি আমার মত মানুষের অগাধ শ্রাদ্ধা! কিন্তু একজন বিচারক হয়ে বাদীর মুখের উপর মামলার কাগজপত্র ছুড়ে মারতে পারেন জেলা জজ!এই শিক্ষা ভোলা জেলা জজ এ,এইচ,এম মাহমদুর রহমানকে কে দিয়েছে ?
এই লাঞ্চিত করা অপরাধ। ভোলা জেলা জজ এ,এইচ,এম মাহমদুর বিচারক হয়ে এই অপরাধ করতে পারে না জেলা জজ।
গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর কোর্টের নির্দিষ্ট কর্মচারীদের ব্যবহার করা মোবাইল ফোন জব্দ করেছেন জেলা জজ। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
অসত্য বিল ভাউচারঃ জেলা জজ জেলায় সবচেয়ে সম্মানিত সরকারি পদ। সম্মান ও শ্রেদ্ধার শেষ নেই। অসত্য তথ্য দিয়ে সরকারের অর্থ উত্তোলন করেছেন। সরকারের অর্থ কোন ক্ষেত্রে কতপরিমাণ ব্যায় হবে উল্লেখ থাকলেও তিনি নিজে লাভবান হওয়ার জন্য যোগসাজশ করেন। উন্নয়নের নামে বিল ভাউচার উঠলেও উন্নয়ন হয়নি। কিন্তু সরকারের অর্থ লোপাট।
এ,এইচ,এম মাহমদুর রহমানের মামলার রায় পরিবর্তনঃ বাদী বিবাদী উভয় কোর্টে আইনজীবী থাকেন। যোগসাজশে বিচারের রায় পরিবর্তন হয়ে যায়। বিচারকের পকেট ভরেন। আইনজীবীরা আঙ্গুল ফুঁলে কলাগাছ হয়ে যায়। মামলার সঠিক বিচার পায় না মামলার বাদী। চোখের পানিতে বুক ভাসে তাদের, আদালতের দরজায় ঘুরে বেড়ায় বিচার পায় না, মা ছাড়া ছেলে, ছেলে হারা মা, বোন হারা ভাই। বিচারক আর আইনজীবী ঘুষের টাকায় বগল বাজায়। আল্লাহ মহান। মহান আল্লাহ’র দরবারে এই চোখের পানি নিশ্চয়ই পৌছায়!
এই বিষয়ে ভোলা জেলা সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মাহমুদুর রহমান এর বক্তব্য জানতে অনুরোধ করা হলেও তিনি তার বক্তব্য জানান নি। জেলা জজ অফিসের তার বক্তব্য জানাতে তার আদালতের পেশকার ও অন্য অন্য স্টাফের সাথে যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য জানা যায় নি।
এই বিষয়ে পরের পর্বে….!!!
আরও সংবাদ পড়ুন।
জেলা প্রশাসকের সরকারি বাসভবনের নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর; থানায় জিডি
আরও সংবাদ পড়ুন।
ভোলা জেলা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এপিপি’দের ধর্মঘট; অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
আরও সংবাদ পড়ুন।
ভোলা কোর্টের বিচারক ও আইনজীবীদের অনিয়ম ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে মিছিল ও মানববন্ধন
আরও সংবাদ পড়ুন।
দুদকের মামলা – সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক সহ রাজউকে’র ৮ জনের বিরুদ্ধে
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি খিজির হায়াতকে অপসারণ
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
সাবেক জেলা জজ ও দুদক কমিশনার জহুরুলের পাসপোর্ট বাতিল, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা
আরও সংবাদ পড়ুন।
আরও সংবাদ পড়ুন।
সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসউদ ও সাধারণ সম্পাদক ডালিম


























