মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত আরো পাঁচ ডাক্তার গ্রেপ্তার

Picsart_23-06-24_09-43-57-968.jpg
admin

মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত আরো পাঁচ ডাক্তার গ্রেপ্তার

অপরাধ প্রতিবেদকঃ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত আরো পাঁচ ডাক্তার গ্রেপ্তার হয়েছেন। গত ১৩ আগস্ট মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত সাত ডাক্তারসহ প্রশ্ন ফাঁসকারী চক্রের ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির সাইবার টিম। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আটজন তাদের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দেওয়া বিপুলসংখ্যক ব্যাংকের চেক এবং অ্যাডমিট কার্ড উদ্ধার করা হয়।

আরও সংবাদ পড়ুন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ জালিয়াতি – নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও সাবেক পরিচালকসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

এ ছাড়াও চক্রের মাস্টার মাইন্ড জসীম উদ্দিন ভূইয়ার কাছ থেকে একটি গোপন ডায়েরি উদ্ধার করা হয়, যেখানে সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা তার চক্রের সদস্যদের নাম পাওয়া যায়। এসংক্রান্তে সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোহাম্মদ আলী মিয়া বিপিএম, পিপিএম সংবাদ সম্মেলন করেন এবং প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মূল উৎপাটনসহ অবৈধ উপায়ে চিকিৎসকের মতো মহান পেশায় ভর্তি হওয়া ডাক্তারদের সন্ধানপূর্বক আইনের আওতায় আনার জন্য সিআইডির কার্যক্রম চলমান রাখার ঘোষণা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে মেডিক্যাল প্রশ্ন ফাঁস চক্রের অন্যতম হোতাসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় সিআইডির সাইবার টিম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন ডা. মো. ইউনুচ উজ্জামান খান তারিম (৪০), ডা. লুইস সৌরভ সরকার (৩০), ডা. মুসতাহিন হাসান লামিয়া (২৫), ডা. শর্মিষ্ঠা মন্ডল (২৬), ডা. নাজিয়া মেহজাবিন তিশা (২৪)।

মো. ইউনুচ উজ্জামান খান তারিম খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার। খুলনা শহরের আলোচিত মেডিক্যাল ভর্তি কোচিং সেন্টার থ্রি ডক্টরসের মালিক। ডাক্তারি পেশা বাদ দিয়ে জড়ান কোচিং ব্যবসায়। প্রতিষ্ঠা করেন থ্রি ডক্টরস কোচিং খুলনা।

তিনি নিজেকে ডাক্তার তৈরির কারিগর হিসেবে পরিচয় দেন। মেডিক্যাল প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে অবৈধভাবে শত শত শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করিয়েছেন তিনি। মেডিক্যাল প্রশ্ন ফাঁসের গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্য শত শত শিক্ষার্থীকে এভাবে ভর্তি করিয়ে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তার এবং তার স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে প্রায় ২৫ কোটি টাকার লেনদেন পাওয়া গেছে। হাসপাতাল, ফ্ল্যাট, জমি, মাছের ঘের, হোটেল শেয়ারসহ গড়েছেন বিপুল সম্পদ।

ডা. তারিমের বিরুদ্ধে একাধিক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এর আগেও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে।

ডা. লুইস সৌরভ সরকার খুলনা মেডিক্যাল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী। খুলনা শহরের আলোচিত মেডিক্যাল ভর্তি কোচিং সেন্টার থ্রি ডক্টরসের শিক্ষক। বর্তমানে একটি বেসরকারি এনজিওতে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত।

ডা. মুসতাহিন হাসান লামিয়া ২০১৫-১৬ সেশনের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় ১১তম স্থান অর্জন করেন। তিনি খুলনা থ্রি ডক্টরস কোচিং সেন্টারের পরিচালক ডা. ইউনুচ উজ্জামান খান তারিমের স্পেশাল ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ছাড়া তাকে বাসায়ও পড়াতেন তারিম। কম মেধাবী হওয়ার পরও তারিমের কাছ থেকে প্রশ্ন পেয়ে তিনি মেডিক্যালে ভর্তি হয়েছেন। তারিমের ঘনিষ্ঠজন ও তৎকালীন কোচিংয়ের তিনজন শিক্ষক তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। জাতীয় মেধায় ১১তম হওয়ার পরও তিনি চারটি ফাইনাল প্রফেশনাল পরীক্ষার সব বিষয়েই ফেল করেছেন। একাধিকবারের চেষ্টায় তিনি পাস করেন। লামিয়ার প্রশ্ন পেয়ে চান্স পাওয়ার বিষয়টি খুলনার চিকিৎসকমহলে ওপেন সিক্রেট। লামিয়ার ভর্তির জন্য তার স্বামী শেখ ওসমান গনি ও ডা. তারিমের মাঝে প্রায় ১৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে জানা যায়।

এ ছাড়া ডা. শর্মিষ্ঠা মন্ডল ও ডা. নাজিয়া মেহজাবিন তিশা উভয়েই ২০১৫-১৬ সেশনের মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় ডা. মো. ইউনুচ উজ্জামান খান তারিমের কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্র ক্রয় করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন।

গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় ছয়টি মোবাইল ফোন, দুটি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড।

আরও সংবাদ পড়ুন।

ডা বিজয় কৃষ্ণ দাস চিকিৎসা দিতে পারবেন না – বিএমডিসি

আরও সংবাদ পড়ুন।

মেডিক্যালের প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে ডা. ইউনুস খান তারিম আটক

আরও সংবাদ পড়ুন।

ডাক্তারা শুধু টাকা কামাতেই ব্যস্ত – শেখ হাসিনা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top