আপরাধ প্রতিবেদকঃ যৌতুকের দাবিতে ভোলার বোরহানউদ্দিন থানার গংগাপুর জমিরবাড়ির কালাম জমিদারের এর ছেলে পাষণ্ড কুট্টি মোস্তফা স্ত্রী ইয়াসমিন (৩০) কে মেরে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে।
ইয়াসমিন এ প্রতিবেদককে জানান, আমার স্বামী বালিশের নিচে ৩০ টাকা রেখে আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে বেধড়ক পিটাতে থাকে। আমি টাকা নেইনি বলে জানালে, সে লাঠি দিয়ে মারতে মারতে আমার হাত ভেঙ্গে দিয়েছে। প্রচন্ড হাত ব্যথায় দাঁড়াতে পারছিলাম না। পানি খেতে চেয়েছি এক গ্লাস পানি পর্যন্ত আমাকে কেউ দেয়নি। এমনি অবস্থায় কেটে যায় ২৩ দিন।
অবশেষে ঢাকায় আমার বড় বোনকে মোবাইল ফোনে হাত ভাঙ্গার বিষয় জানালে তিনি আমার স্বামী মোস্তফাকে ফোন করলে ২৫ দিন পর ভোলা সদর হাসপাতালে নেয়। সেখানে কোনরকম ব্যান্ডেজ করার পর ডাক্তার জানিয়ে দেন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে যেতে হবে।
এক আত্মীয়ের সহযোগিতায় ঢাকায় আসি বড় বোনের বাসায়।তিনি পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে আমাকে চিকিৎসা করান। এক্সরে রিপোর্টে বলা হয় হাত ভেঙে গেছে। ঢাকা থেকে আমার স্বামীকে ফোন করে চিকিৎসার বিষয়ে অবগত করি এবং অপারেশন বাবদ টাকা লাগবে জানালে তিনি অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ও জানিয়ে দেন আমাকে চিকিৎসা বাবদ কোন খরচ দিবেন না। এমনি অবস্থায় আমি বড় বোনের বাসায় অবস্থান করছি।
আমার মা মারা গিয়েছে বৃদ্ধ বাবা ছেলেদের বাসায় থাকেন। বিয়ের সময় আমার কাছ আমার স্বামী ৭০ হাজার টাকা যৌতুক নিয়েছে. আমার মায়ের দেয়া ব্যবহারের আট আনা সোনার গহনা নিয়েছে। সেই গহনা আমাকে আর ফেরত দেয়নি।
বাবার বাড়ি থেকে আরও টাকা এনে দেয়ার জন্য আমাকে প্রায়ই মারপিট করে। এভাবেই কান্না জড়িত কন্ঠে কথাগুলো বলছিলেন নির্যাতিত ইয়াসমিন।
তিনি আরও জানায় মোস্তফার বড় বোন মরিয়ম ছোট বোন রাবেয়া ও তার ভাই আনোয়ার প্রায়ই যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করে। তাদের নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অবশেষে পালিয়ে জীবন রক্ষা করেছি। আমি এদের শাস্তির দাবি করছি। এভাবেই এ প্রতিবেদককে জেসমিন তার নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন।
ইতিপূর্বে জেসমিনকে মেরে মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করায় এবং এক সপ্তাহ অক্সিজেন দিয়ে রাখে। এ বিষয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান বিচার সালিশ করলে।
আমাকে আর নির্যাতন করবে না বলে স্বীকারোক্তি দেন। তার কিছুদিন পর আবারো আমাকে মেরে হাত ভেঙ্গে দিয়েছে।


























