বিশেষ প্রতিবেদকঃ সরকারের বহু খাস জমি অব্যবহৃত হয়ে পড়ে আছে। রেলপথ মন্ত্রণালয়, বন, পানি সম্পদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের খাস জমিগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
সারাদেশের কত খাস জমি রয়েছে মাঠ পর্যায় কিংবা জেলা পর্যায় থেকে তথ্য নিয়ে দেখা হবে। সেজন্য চার উপদেষ্টার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ চার উপদেষ্টা হলেন-ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, জ্বালানি উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
বুধবার রাজধানীর পরিকল্পনা কমিশন চত্বরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রধান উপদেষ্টা ও একনেক চেয়ারপার্সন ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সভাপতিত্বে এই একনেক সভা হয়।
বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রকল্প সঠিক সময়ে বাস্তবায়ন হয় না ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতার কারণে।
এছাড়া খাস জমি রেখে কৃষি জমিতে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের নজিরও রয়েছে অনেক। ভূমি অধিগ্রহণকে কেন্দ্র করে আমলাদের অনৈতিক চর্চাও রয়েছে।
ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, সারাদেশে খাস জমি পড়ে আছে। এ বিষয়ে কয়েকজন উপদেষ্টা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এগুলো কী অবস্থায় আছে তা বের করবো। কী পরিমাণ খাস জমি অপব্যবহার হয়েছে তা দেখা হবে। যত খাস জমি পড়ে আছে তা দুই মাসের মধ্যে হিসাব নেওয়া হবে।
বিগত সময়ে প্রকল্পগুলো একটা মাফিয়া চক্রের হাতে ছিল দাবি করে ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, বিগত সময়ে মাফিয়ারা রেল, সড়ক, সেতু ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি খাতের প্রকল্প বাস্তবায়নে জড়িত ছিল। তবে এখন তাদের সেই সুযোগ নেই।
‘এখন দেখা হবে তাদের দক্ষতা কেমন, বিভিন্ন জায়গায় তাদের রেকর্ড কেমন ছিল দেখা হবে। একজনের নামে কাজ নিয়ে অন্যদের কাজ দেওয়া সম্ভব হবে না। নতুন যারা আছে তাদের সুযোগ দেওয়া হবে’- যোগ করেন তিনি।
খাস জমির খোঁজার কারণ উল্লেখ করে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ করতে অনেক সময় লেগে যায়, অনেক কৃষি জমিও ধ্বংস হয়ে গেছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি সরকারের বহু খাস জমি অব্যবহৃত পড়ে আছে, সেগুলো খুঁজে বের করার। সেজন্য এ চার উপদেষ্টার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটি মাঠ পর্যায়ে বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের খাস জমির তথ্যগুলো একত্রিত করে রিপোর্ট করবেন।
তিনি বলেন, গাজীপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজটির প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়েছে কারণ এখানে ভূমি অধিগ্রহণের ব্যাপার রয়েছে। অথচ পাশেই জিন ব্যাংকের ক্যাম্পাস খালি পড়ে রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি সম্পর্কে পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এটি অনেক কম। অন্যান্য বছর ৩ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে থাকে। এখন বাস্তবায়ন না করার কোনো অজুহাত চলবে না। এজন্য আমরা আগামী সপ্তাহে আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠক ডেকেছি।
কোনো সরকারি কর্মকর্তা এখন প্রকল্প পরিচালক হতে চান না উল্লেখ করে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আরও বলেন, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) সাধারণত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকেই নেওয়া হয়। এখন এমন অবস্থা হয়েছে কেউ পিডি হতে চান না।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভা দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আনতে ৮ হাজার ৩৩৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৪ হাজার ৪৩৭ কোটি ৮২ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ১ হাজার ২২৫ কোটি ৩৬ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ৬৭০ কোটি ৯ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, অর্থ ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ফারুক ই আজম, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, শিল্প ও গৃহায়ন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ ও পানি সম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


























