সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের পরিবহন মন্ত্রীর বৈঠক

admin

সাগর চৌধুরীঃ বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি আজ (৯ জুলাই ২০২৬) লন্ডনে যুক্তরাজ্যের পরিবহন বিষয়ক মন্ত্রী দ্য রাইট অনারেবল হেইডি আলেকজান্ডার, এমপি-এর সঙ্গে এক আন্তরিক ও ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন।

বৈঠকের শুরুতে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা যুক্তরাজ্যের পরিবহন মন্ত্রীর নিকট পৌঁছে দেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের বিপুল সমর্থনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এবং গণতন্ত্র, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘদিনের অবস্থান তাঁকে সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা এবং আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনা সম্পর্কে মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিয়েছে, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমে ইতিবাচকভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করতে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

মন্ত্রী বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আন্তর্জাতিক জাহাজে কর্মরত বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য ওকেটিবি (OKTB) এবং অন্যান্য ট্রানজিট ও নাবিক-সংক্রান্ত ভিসা দ্রুত ও সহজতর করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ, সামুদ্রিক প্রকৌশল, বন্দর উন্নয়ন, সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা এবং বন্দরভিত্তিক শিল্পে অধিকতর ব্রিটিশ বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব সম্প্রসারণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে হংকং আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে দেশের ৪২টি জাহাজ পুনর্ব্যবহার ইয়ার্ডের মধ্যে ২৭টি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে এবং অবশিষ্ট ইয়ার্ডগুলোকে পর্যায়ক্রমে ওই মানদণ্ডে উন্নীত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সমুদ্র চলাচল সংস্থার (IMO) জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস-সংক্রান্ত বৈশ্বিক উদ্যোগকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। যদিও বাংলাদেশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রধান উৎস নয়, তবুও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সবুজ প্রবৃদ্ধি এবং টেকসই সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশের সড়ক, রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী যুক্তরাজ্যের পরিবহন মন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আন্তরিক আমন্ত্রণ জানান। উভয় পক্ষই পরিবহন, নৌপরিবহন, রেলপথ, বন্দর উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরও সংবাদ পড়ুন।

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও অনিয়মের দায়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রীর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

scroll to top