পৌষের হিমসকাল। পাঁছবছর বয়সের এক শিশু মহানগরীর ব্যস্ত সড়ক মৌচাক মোড়ে বসে থর থর কাঁপছে। ছেঁড়া একটা জামা গায়ে। সারা দেহে ময়লা,জুতোবিহীন পা,মাথার চুল উসকো খুস্কো। পথচারীরা যে যার মত যাচ্ছে। শিশুটির দুচোখ বেয়ে অঝোর বৃষ্টির ধারা প্রবাহিত হচ্ছে। মর্নিং ওয়াক করতে বের হওয়া মানুষদের সে দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই। জগত সংসারে যেন সে এক ধূলিকণা, পড়ে আছে পথে প্রান্তরে! এ শীতে শিশুটির কষ্ট অনুভব করার মতো কেউ নেই। কে পিতা তা সে জানে না, কে মাতা এতোদিনে সে মুখটিও সে মনে করতে পারে না। তার জন্মের সাথে সাথেই তার মায়ের থেকে তাকে আলাদা করা হয়েছে। পিতৃপরিচয়হীন একটি শিশুর মায়ের স্নেহ পাওয়ার যেন অধিকার নেই! ডাস্টবিনে তাকে ফেলে দেয়া হয়েছিলো। আশ্চর্যজনক ভাবে ডাস্টবিনের খাবার খেয়ে বেঁচে থাকা আর একজন হতদরিদ্র বৃদ্ধাই তাকে এতোদিন ভাঙাবুকের উষ্ণতা দিয়ে আগলে রেখেছে। গতরাতে শীতের দাপটের কাছে সে বৃদ্ধা আত্মসমর্পণ করে দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন। বৃদ্ধা শিশুটির নাম রাখেন ‘ভুল!’
‘ভুল’ কারো নাম হতে পারে জানা ছিলো না। পথে পাওয়া ‘ভুল’ই ছিলো বৃদ্ধার আনন্দের নির্ঝর। কিন্তু আজ ‘ভুল’ এর দিকে ভুল করেও কেউ তাকাচ্ছে না!
ঠিক একই পথে হাঁটছে আর এক গৃহহীন কিশোর। যার নাম ফুল। এও অদ্ভুত নাম। ফুলের অবশ্য মা বাবা দুজনই ছিলো,সে অন্তত আট বছর বয়স পর্যন্ত বাবা-মায়ের চোখের মণি ছিলো। কিন্তু কী এক ব্যাধি করোনায় দুজনই ইন্তেকাল করেন। ফুলকে অপয়া নাম দিয়ে ত্যাগ করে মামা-মামী, একই ভাবে সম্পত্তির লোভে ত্যাগ করে চাচা-ফুফুরা।
সম্পত্তি আর সম্পর্ক এক সাথে বোধ হয় থাকতে পারে না।
ফলে পেটের দায়ে একদিন সে গৃহহীন হয়ে পথে প্রান্তরে ঘুরতে ঘুরতে এ জটিল নগরীতে পা রাখে। বাবা-মা বেঁচে থাকতে সে স্কুলে পড়তো। বর্ণজ্ঞান তার ছিলো। সাইন বোর্ড পড়ে পড়ে সে অবাক হয় আবার দিশা খুঁজে পায়। এখানে সেখানে কাজের বিনিময়ে একটু খাবার সে পায়। তার সপ্রতিভহাসি আর মায়াবী মুখশ্রী আকর্ষণ করে অসীম চৌধুরীকে। হাত ধরে নিয়ে আসেন নিজের বাসায়। স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন। ভাগ্যের লীলা বটে!
ফুলকে স্কুলে সবাই সাদরে গ্রহণ করে । তার ফলাফল ভালো হতে শুরু করে। হবেই তো,বাবা মায়ের চোখের মনি, কলিজার টুকরা। কত যত্ন করেই না তাকে মা পড়া শিখিয়েছে। আট বছর বয়সে সে ক্লাস থ্রিতেই পড়তো। ক্লাসে ফার্স্ট বয় ছিলো। হঠাৎ কী থেকে কী হয়ে গেলো!
স্কুল ভর্তি হতে পেরে তার আনন্দের সীমা নেই।
স্কুল পরিচ্ছন্ন রাখা, সবাইকে অর্গানাইজ করা, খেলাধুলা ও কালচারাল ইভেন্টে সে ভালো করতে শুরু করে। সফলতার সাথে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ তার শেষ হয়। এ সময়ে ফুলের পাশে স্কুল দারুণ ভাবে দাঁড়ায়। তার সব খরচ ফ্রি। তাকে স্কুল থেকেই খাতা-কলম, দুপুরের খাবার সরবরাহ করা হয়৷ অসীম চৌধুরী ফুলকে খুবই ভালোবাসেন। বাসায় তার থাকাটা বেগম সাহেবা অপছন্দ করলেও মোটামুটি ফুলের রাতটুকু কোন মতে কেটে যেতো। বাঁধ সাধলো অসীম চৌধুরীর কন্যা। কারণ তার বাবা আর কাউকে ভালোবাসবে এটা সে মেনেই নিতে পারতো না।
ফুলের পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল এলো। সে পুরো জেলায় ফার্স্ট। অসীম চৌধুরী অনেক আনন্দিত মনে ফুলের জন্য নতুন পোশাক-আশাক,মিষ্টি নিয়ে বাসায় এলো।
অনীতার রাগ আকাশ ছুঁয়ে বজ্র হয়ে নামলো। সে অসীম চৌধুরীর কাছে ফুলের নামে মিথ্যা অপবাদ দিলো যে অসীম তার শ্লীলতাহানি করেছে।
ফুল অবাক হয়ে ভাবতে লাগলো, শ্লীলতাহানি আবার কী! এ জন্মই তার বৃথা! অনীতা আপুকে সে বোনের মতোই জানে। অভিমানে চোখ জলে ভরে আসে। সে একটা চিরকুট লিখে সবার অলখে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। কোথায় যাবে, কোথায় থাকবে-নানান ভাবনায় সে ঘুরতে ঘুরতে এসে থামে সেই ছিন্নমুল মানুষদের কাছে। সেই বস্তিবাসীরা তাকে গ্রহণ করে, শর্ত হলো তাদের শিশুদের পড়াতে হবে। ফুল রাজী হলো।
সবাই মিলে তাকে পলিথিনের ছোট একটা ঘর বানিয়ে দিলো। ফুল গেলো তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে। সব শুনে প্রধান শিক্ষক রাজীব আন নূর তার মাথায় হাত রাখলেন। তাকে স্কুলের পরিত্যাক্ত একটা রুম দেয়া হলো যেখানে সে বস্তির শিশুদেরকে সন্ধায় কিছু সময় পড়ানোর সুযোগ পাবে।
শুরু হলো ফুলের যুদ্ধ। এ যুদ্ধে একাই সে যোদ্ধা। অভাবের মতো অদৃশ্য শক্তির সাথে তার তুমুল সংগ্রাম। পাশে আছে হেড স্যার,রাজীব আর ভাগ্যবিড়ম্বিত বস্তিবাসী!
রাজীব স্যার ফুলকে পাশের হাই স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলেন।
ফুল সকাল থেকে নিজের পড়া রেডি করে স্কুলে যায়, স্কুলের ক্লাস নিয়মিত করার সাথে সাথে স্কুলের পরিচ্ছন্নতা, ছাত্র-শৃঙ্খলা, স্যারদের ফরমায়েশ- সবই সে শোনে। দুপুরের খাবার কোন না কোন স্যার তাকে সরবরাহ করে।
সারা বিকেল বস্তির শিশুদের লেখা-পড়া, করিয়ে তার দিন কাটে। এরই মাঝে তার শিশুর দলের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বস্তির শিশুদেরকে সে কাজে উদ্বুদ্ধ করে। যারা একটু বড় তারা যেন অযথা ঘুরাঘুরি না করে কাজ করে। দারিদ্র্যের দুষ্টু চক্র থেকে বের হতে হবে। তারা কাগজ কুড়িয়ে, বোতল কুড়িয়ে সঞ্চয় করতে লাগলো। তার দলের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। সে হিমসিম খাচ্ছে। ফলে যারা একটু ভালো করছে তাদেরকেও সে শিক্ষক হিসেবে কাজে লাগাচ্ছে।
ফুল এখন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র। সেদিন ‘ভুল’কে ফুল বুকে তুলে নেয়। তার দুচোখ আপনা থেকে ভিজে গেলো। বললো, তোমার নাম কী?
কাঁপতে কাঁপতে বললো,ভুল।
ফুলের চোখে জল। ভুলের চোখে জল।
ফুল আর ভুল মিলে কান্নায় একাকার। জানতে চাইলো কোথায় থাকো।
ভুল ফুলকে হাত ধরে নিয়ে গেলো সেই ঝুপড়িতে যেখানে তারা থাকতো। ফুল ‘ভুল’কে নিয়ে ঝুপড়ি যায়। ভুলের কান্নার মাত্রা বাড়ে। ও দাদু, ওঠো, ‘খিদা লাগছে, খাইতে দাও, আমার শীত করে,আমাকে বুকে নাও।’ ফুল দেখে
বৃদ্ধাদাদু ঠান্ডায় জমে আছে। পালস দেখে বুঝে গেল দাদু নেই। ভুলকে কাঁথায় জড়িয়ে বসিয়ে রেখে এলো রাজীব স্যার এর কাছে।
রাজীব স্যার এর উদ্যোগে বৃদ্ধাকে সমাহিত করা হয়।
এখন’ ভুল ‘কোথায় যাবে?
রাজীব স্যার বললেন, ভুলকে আমি নিয়ে যাই।
ফুল রাজী হলো না। না স্যার, আপনি শুধু খেয়াল রাখবেন ভুল স্কুলে যায় কি না। সে আমার ভাই, আমার ছোটভাই। আমার সাথে থাকবে।
দুই শিশু-কিশোরের কান্না আর কষ্টে যেন পাখিরাও কাঁদছে।
ফুল পরম মমতায় তাকে খেতে দেয়, পরতে দেয়।
দিন শেষে রাত নামে। ভুল ফুলের বুকে নিশ্চন্তে ঘুমায়।
ফুলের চোখে ঘুম নেই। ভুলের দায়িত্ব সে কী ভাবে পালন করবে!
সারারাত চিন্তা করে সকালে রাজীব স্যার এর কাছে যায়।
স্যার, আমি এখন বেশ বড় হয়েছি। কিছু কাজ করতে চাই।
বেশ তো, করবে। পড়াশোনা কে করবে শুনি!
স্যার, পড়তে পারবো। কাজ করেই পড়বো।
রাজীব স্যার, কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বললেন,দেখি কী করা যায়।
এ দিকে ভুলকে স্কুলে ভর্তি করিয়ে দিলো। রাজীব স্যারের তত্ত্বাবধানে ভুল প্রফুল্ল হয়ে উঠলো বটে কিন্তু পড়া শিখতে তার মন চায় না। মাথা হিজিবিজি লাগে। ক্লাস পালাই পালাই মনোভাব।
আর সবার সাথে ভুলকেও পড়তে বসালো। ফুল দেখলো,তার ঘুমে ঢুলুঢুলু চোখ,ঝিমাচ্ছে। আজ দুপুরে সে খায়নি। আজ খাবার জোটাতে পারেনি।।যে খালা তাকে খাবার দেয় আজ খালা আজ নেই। অন্যরা খেয়াল করেনি।
সেও লজ্জায় কিছু বলেনি। তার কাছে হাত পেতে খাওয়া লজ্জাজনক মনে হয়। মা-বাবার কথা মনে পড়ে। কত ভালো ভাবে আদরে তাকে রেখেছিলো। সে প্রতীজ্ঞা করে-
যদি না খেতে পেয়ে যা তা অবস্থা হয় তবুও সে বস্তির এই শিশুদের ত্যাগ করবে না।পড়াশোনা ছাড়বে না। ভুলকে বের করে দেবে না।
এমন সময় রাজীব স্যার আসেন। ফুলকে বললেন, একটা ওয়ার্কশপে তোমার জন্য একটা কাজ ঠিক করেছি। বেশি সময় কাজ করা লাগবে না। দিনে দুই ঘন্টা কাজ করবে। বেতন নেই। পকেট খরচ দেবে। কাজ শেখা হয়ে গেলে বেতন দেব। ফুল যেন লুপে নিলো। পরের দিন ভুলকে সাথে নিয়ে কাজে হাজির হয়ে গেলো।
গাড়ি মেরামতের কাজ। ফুল দারুণ ভাবে উপভোগ করতে লাগলো! সাত দিনের কাজ যেন একদিনেই হয়ে যাচ্ছে।।দুই ঘন্টার জায়গায় তিন ঘন্টা কাজ করে, খাবারের দিকেও।চাহিদা নেই। গায়ে কালি -ময়লা মেখে পলিথিনের বাড়ি ফেরে। গোসল সারে। আবার তার স্কুলের শিশুদের পড়াতে বসে। ভুলের কান্না থামে না। কেউ হয়তো একপ্লেট খাবার দেবে।তারপর খাবে। আজ এখনো কেউ দেয়নি। শিশুদেরকে ছুটি দিয়ে ভুলকে ঘুম পাড়াতে যায়, ভুল বলে, ভাইয়া ঘুম আসে না৷ খিদা লেগেছে।
ফুল বলে, গল্প শুনবি?
ভুল বলে, হ্যাঁ।
আচ্ছা, বলছি, শুনতে হবে,মন দিয়ে তারপর আমাকে আবার শোনাতে হবে।
আচ্ছা।
এক বনে বাস করত চুটকি নামের এক ছোট্ট চড়ুই পাখি। চুটকি ছিল খুব চঞ্চল, কিন্তু তার একটা ছোট্ট ভয় ছিল—সে বেশি উঁচুতে উড়তে পারত না। বাকি পাখিরা যখন মেঘের কাছাকাছি চলে যেত, চুটকি তখন গাছের নিচু ডালে বসে দীর্ঘশ্বাস ফেলত।
একদিন চুটকি দেখল, বনের এক কোণে একটা ছোট কাঠবিড়ালি গাছের মগডালে আটকে গেছে এবং নিচে নামতে পারছে না। নাম তার মিতু। মিতু ভয়ে কাঁপছিল। চুটকি ভাবল, “আমি যদি উড়াল দিয়ে ওকে সাহস না দিই, তবে ও তো পড়ে যাবে!”
চুটকি তার ছোট্ট ডানা দুটো ঝাপটাতে শুরু করল। মনে মনে বলল, “আমি পারব!” সে তার জীবনের সবটুকু শক্তি দিয়ে উপরে উড়তে লাগল।
* প্রথমবার সে কিছুটা উঠে পড়ে যাচ্ছিল।
* দ্বিতীয়বার সে মাঝপথ পর্যন্ত পৌঁছাল।
* তৃতীয় চেষ্টায় সে সোজা মিতুর পাশে গিয়ে বসল।
চুটকিকে দেখে মিতু সাহস পেল। চুটকি তাকে ডানা দিয়ে আগলে রেখে নিচু ডালে নামতে সাহায্য করল। নিচে নেমে মিতু বলল, “ধন্যবাদ চুটকি! তুমি তো আজ মেঘের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলে!”
চুটকি অবাক হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখল, সে সত্যি অনেক উঁচুতে উঠে গিয়েছিল! সেই দিন থেকে চুটকির ভয় কেটে গেল। সে বুঝল, সাহস মানে ভয় না পাওয়া নয় বরং ভয়কে জয় করে এগিয়ে যাওয়া।
ঘুমিয়ে পড়লি?
আরে না!
কিছু বুঝলি? বল, কী বুঝলি?
ছোট্ট ফুল কাঁদে। আমার ক্ষুধা লাগেনি ভাইয়া।
এমন সময় পারুল খালা ডাক দিলো, বাবা ফুল, জেগে আছো? আইজ সাহেবগো বাড়িত ম্যালা মেহমান আইছে। ম্যালা কাম, আইতে দেরি অইলো। ওডো, কটা খাইয়া ল।
ফুল আর ভুল দ্রুত ভাঙা দরজা খুলে দেয়।
খাবার দেখে দুজনে খুব খুশি হয়, তারা চোখের পানির সাথে মিশিয়ে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ে।
পরদিন থেকে একই যুদ্ধ তার চলতেই থাকে। তবে মালিক।সেদিন থেকে তাকে দিনে একশ টাকা করে দিতে থাকে।জীবনের প্রথম আয় নিয়ে রাজীব স্যার এর কাছে যায়।
ফুলের চোখে অশ্রু হেমন্তের শিশিরের মতো চকচক করছে। টাকা স্যার এর দিকে বাড়িয়েই আছে। আমার প্রথম আয়! সে ভোলেনি অসীম চৌধুরীর কথা। প্রায়ই কলিজায় মোচড়ায়। তবুও সে দিকে পা বাড়ায় না। সে এখন বুঝতে পেরেছে অনীতা আপু কেন মিথ্যে বলেছিলো।
রাজীব স্যারও আবেগে ফুলকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ফুল তোর বিকশিত হবার এই তো সময়!
সেদিনের পর থেকে ফুলের গায়ে যেন বসন্তের দোলা লেগেছে৷ কঠোর অধ্যবসায় চলছে। সকালে নিজের পড়া ঠিক করে স্কুলে যাওয়া, স্কুলের সময়টুকু পড়ায় মনোনিবেশ করা, ফিরে ওয়ার্কশপে যাওয়া, রাতে শিশুদের পড়ানো, সব শেষে ভুলকে পাঠ দিয়ে ঘুমের রাজ্যে যাওয়া।
তাকে জিততেই হবে। সে অষ্টম শ্রেণিতে পুরো জেলায় ফার্স্ট, স্কলার শিপেও তাই। এদিকে ভুলও পাঠে মনোযোগী হয়েছে এবং ফুলের সাথে সহযোগী হিসেবে দুর্দান্ত হয়ে উঠেছে।
দিন তো যাচ্ছেই, তাই না?
পাক্কা বারো বছর পরে, রাজীব স্যার এর স্কুলের শেষ দিন। বিশাল এক গাড়ি নিয়ে সুদর্শন দুই যুবক হাজীর। রাজীব স্যার চশমা পরে ভালো করে দেখেন।
কে?
কে ওরা?
ফুল আর ভুল দুজন দুপাশ থেকে স্যারকে জড়িয়ে ধরেছে।
স্যার চিনতে পারলেন না। আমি ফুল, সে ভুল।
এ গাড়ি আজই কিনেছি। এটাই আপনার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে উপহার।
তোমরা জানো, রাজীব এই বারো বছর কোথায় ছিলো?
সেই ওয়ার্কশপে কাজ তার লেখাপড়া দুটো একসাথে চালিয়ে সে হয়ে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। ভুলও মেকানিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। সে সাথে নিজেরাই একটা ওয়ার্ক শপ দিয়েছে। সেখান থেকে ক্রমেই তারা কোম্পানী ফর্ম করে। তাদের ফার্মের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
সেদিন তারা বস্তিতে যায়। সে সব শিশু-কিশোরেরা কে কেমন আছে খোঁজ নেয়।
ফুল বস্তি থেকে যে দিন বিদায় নিয়েছে সেদিন ছিলো এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। সবাই তাকে এতো ভালোবাসে !
তবে সে একেবারেই হাল ছাড়েনি। সানু নামের যুবকের হাতে সব দায়িত্ব ন্যস্ত করে।
সে সব যুবকেরা সবাই বড় হয়েছে। লেখা পড়া শিখেছে। সবাই ছোট ছোট দোকান-পাঠ চালিয়ে ভালোই আছে। কেউ কেউ এখনো বস্তি আঁকড়েই আছে। কেউ কেউ অন্য কোথাও বাসা বেঁধেছে।
একদিন পিতৃহীন ফুল থাকতো পথে প্রান্তরে। আজ সে প্রতিষ্ঠিত ইঞ্জিনিয়ার।
ভুলকে সাথে করে সেই অসীম চৌধুরীর খোঁজে যায়।
এখনো সে বাসাতেই আছে। অনীতাও সেই বাসাতেই আছে।
ফুল সে বাসায় যাবে? যাওয়া উচিত? তোমরা কী বলো?
শাহানা সিরাজী
আরও পড়ুন।



























