এইচ এ শরীফঃ ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লঞ্চঘাটসংলগ্ন তেতুলিয়া নদীর ভয়াবহ ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় ৫ হাজার পরিবারের বসতভিটা। প্রতিদিনই নদীর প্রবল স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে নদীতীর, ধসে পড়ছে বাড়িঘর। ভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটছে নদীতীরবর্তী মানুষের।
স্থানীয়দের বাসিন্দাদের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদীভাঙন চললেও কার্যকর কোনো স্থায়ী প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বর্ষা মৌসুমে তেতুলিয়া নদীর স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে বিস্তীর্ণ জনপদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, নদীর কিনারার অনেক বসতঘর এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও ভাঙন ঘরের একেবারে নিচ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বেড়িবাঁধের ওপর অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতিনিয়ত আতঙ্কে রয়েছেন তারা।
সাচড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মহিউদ্দিন মোল্যা বলেন, “সাচড়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লঞ্চঘাট, বেড়িবাঁধ ও আশপাশে প্রায় ৫ হাজার পরিবারের বসবাস। জরুরি ভিত্তিতে এখানে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও নদীতীরে কংক্রিট ব্লক স্থাপন প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব হাফিজ ইব্রাহিম মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।”
এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জিয়া উদ্দীন আরিফ বলেন, গত সপ্তাহে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই সেখানে প্রয়োজনীয় কাজ শুরু হবে।
দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ ও ব্লক নির্মাণের দাবি করে কয়েকজন নৌকার মাঝি সহ বলেন, অস্থায়ী সংস্কার নয়, দীর্ঘমেয়াদি নদী রক্ষা প্রকল্পের আওতায় টেকসই বেড়িবাঁধ ও কংক্রিট ব্লক নির্মাণ করা হোক। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে হাজারো পরিবার বসতভিটা হারিয়ে মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
স্থানীয় সাংবাদিক ও সামাজিক সংগঠনের মতে, তেতুলিয়া নদীর ভয়াল ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণই পারে সাচড়া ইউনিয়নের হাজারো মানুষের জীবন, সম্পদ ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে।

























